চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে অবশেষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা বহুল আলোচিত হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালত এই আদেশ দেন। বুধবার (০৪ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান আসামিদের জামিন বাতিল করে সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে এলার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমণি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি উল্লেখ করে তাঁর আইনজীবী শুনানির তারিখ পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন জানান। আবেদনে বলা হয়, চিকিৎসাজনিত কারণে পরীমণি উপস্থিত হতে পারেননি, তাই সময় দেওয়া না হলে আসামির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে, বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানান। এ সময় আসামিপক্ষের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় এবং সার্বিক শুনানি শেষে আদালত পরীমণির সময়ের আবেদন নাকচ করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে পরীমণিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা বেআইনিভাবে প্রবেশ করে অ্যালকোহল পান করেন এবং বিনামূল্যে ব্লু লেবেল মদের বোতল পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি অশালীন আচরণ করেন এবং গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মেরে নাসির উদ্দিনকে আঘাত করেন। এ সময় ক্লাবে ভাঙচুর চালিয়ে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলাটির তদন্তভার পেয়েছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)। পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন তদন্ত শেষে পরীমণি এবং তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে আদালত পরীমণি ও জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, উক্ত ঘটনার পর পরীমণিও সাভার থানায় নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছিলেন, যা বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।