গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। তবে এ ক্ষেত্রে আগাম সমন্বয় করতে হবে বলে স্পষ্ট করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী। বুধবার (০৪ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশ্বাসের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণকে ‘মুসলিম ভাই-বোন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আত্মরক্ষার স্বার্থে ইরান নতুন ড্রোন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে এবং যেকোনো বাইরের হামলা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে হাফিজ ও শেখ সাদির মতো প্রখ্যাত কবিদের ঐতিহ্য বহনকারী দেশ হিসেবে ইরান যুদ্ধের চেয়ে শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবতায় বেশি বিশ্বাস করে।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের মৌলিক কোনো বিরোধ নেই। যদি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানের ওপর আক্রমণ চালানো না হয়, তবে তেহরান নিজ থেকে কখনোই কোনো আরব দেশে সামরিক আক্রমণ করবে না। পাশাপাশি পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ উল্লেখ করে তিনি পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও মার্কিন নীতির সমালোচনা করে জলিল রহিমি জানান, ইয়েমেনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও যুদ্ধ ইরানের ইসলামি বিপ্লবেরও আগের ইতিহাস। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে ইয়েমেনের হুতি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির মতো সংগঠনগুলোর প্রতি ইরানের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন বহাল রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরান কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে সমর্থন প্রদান করে না; উদাহরণস্বরূপ হামাস সুন্নি সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও ইরান তাদের প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন।