চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও আন্দোলনের মুখে দেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বড় ঘোষণা এসেছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের জন্য চূড়ান্ত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে নিম্নতম মজুরি বোর্ড। মূলত জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গেই শ্রমিকেরা তাঁদের নতুন নির্ধারিত মজুরি হাতে পাবেন।
বুধবার (০৪ নভেম্বর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেগুনবাগিচায় বোর্ডের নিজস্ব সভাকক্ষে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ড চেয়ারম্যান বিচারক সৈয়দ আজাদ সুবহানীর সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মজুরি বৃদ্ধি ও তিন দফা দাবিতে দেশজুড়ে পোশাকশ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার গত ১ নভেম্বর পোশাক শিল্পের জন্য নতুন এই মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে, যার প্রথম সভাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সভায় পোশাক শিল্পের নতুন এই বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। এছাড়া বৈঠকে বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং স্থায়ী সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানী ঢাকা, সাভার ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা দফায় দফায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে আসছেন। আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অপ্রতুল বলে দাবি করে আসছিলেন শ্রমিকরা। নতুন বোর্ডের এই দ্রুততম সময়ের সিদ্ধান্ত শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে কতটা ভূমিকা রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।