তুরাগ নদীর পানির মান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে গৃহীত একটি মেগা প্রকল্পের আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদের সংস্থান রাখা বিদেশ প্রশিক্ষণের বিতর্কিত প্রস্তাবটি অবশেষে অনুমোদন পায়নি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রস্তাবিত ১৮৩ কোটি টাকার এই প্রকল্প থেকে বিদেশে গিয়ে শেখার বায়নাটি একনেক বৈঠকে সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (০৪ নভেম্বর ২০২৬) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) নিয়মিত সভায় এই জনস্বার্থমুখী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মূলত বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় কর্মকর্তাদের বিলাসিতার সুযোগ বন্ধ করতেই সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের নীতি মেনে একনেক এই পদক্ষেপ নেয়।
এর আগে তুরাগ নদের দূষণ ঠেকানো ও নদী পুনরুদ্ধারের কৌশল শিখতে ঋণের কোটি কোটি টাকা খরচ করে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত এই প্রকল্পে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, আইএমইডি, ইআরডি, জিইডি এবং প্রোগ্রামিং ডিভিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে মোট ৫টি বিদেশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। এই বিদেশ ভ্রমণের পেছনে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব জমা দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রশ্ন তোলা হয়। পরিশেষে বিতর্কের মুখে পড়ে একনেক সভায় এই বিদেশ ভ্রমণের অংশটির অনুমোদন বাতিল করা হলো।