মাগুরায় চাঞ্চল্যকর স্বর্ণ ডাকাতি এবং সেই লুটকৃত স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির পর নিজেদের ভেতরে টানাপোড়েন শুরু হলে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রূপ নেয়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ও স্বর্ণ ডাকাতির পৃথক দুটি মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৬১ ভরি ৬ আনা লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
বুধবার (০৪ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। তিনি জানান, মামলায় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার পেছনে থাকা মূল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সভাপতি গোলাম জাহিদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থিত রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে পৌর যুবদলের নেতা শাকের হোসেনকে গুলি করা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শুরুতে এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড় নেয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর মাগুরা সদরের রামনগর বাজার এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি মহাসড়ক সংলগ্ন স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মারুফ হোসেন এবং নিহত যুবদল নেতা শাকের হোসেন। ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ওই দিন ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানের প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ লুট করে। ডাকাতির পর লুণ্ঠিত মালামালের বন্টন ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে মারুফ ও শাকেরের মধ্যে চরম শত্রুতা তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ভাড়াটে খুনি দিয়ে শাকেরকে হত্যার পরিকল্পনায় রূপ নেয়।
পৃথক দুই মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃত ১১ জনের মধ্যে হত্যা মামলায় ৬ জন এবং স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় ৭ জন আসামি রয়েছেন (কয়েকজন উভয় মামলায় অভিযুক্ত)। এদের মধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি গোলাম জাহিদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মারুফ হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম লুবনা, ঝিনাইদহের স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদার, বশির আলী, মো. জুয়েল হোসেন, চৌকির আহমেদ, ফরিদ মন্ডল, মিল্টন মোল্লা ও মারুফা আক্তার উল্লেখযোগ্য। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন আশ্বাস দেন যে, মূল ভাড়াটে খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারসহ বাকি অবশিষ্ট লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দলের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।