বগুড়া প্রতিনিধি
রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এবং দলের শীর্ষ নেতার কাছে চিঠি লিখেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়া সাবেক এক শিবিরকর্মী সাব্বির প্রামাণিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গণমাধ্যমে সাব্বিরের দীর্ঘ ১৩ বছরের বঞ্চনা ও জীবনসংগ্রামের মর্মস্পর্শী খবর প্রকাশের পর প্রতিমন্ত্রী নিজ প্রতিষ্ঠানে তাকে ম্যানেজার পদে চাকরি দিয়ে কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হন সাব্বির প্রামাণিক। সেদিনের হামলায় তার সহকর্মী শিবির নেতা আবু রুহানী নিহত হন এবং সাব্বির নিজেও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত পান। হার্ট, ফুসফুস ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার শরীরে অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং বিভিন্ন স্থানে দিতে হয় ৬৪টি সেলাই। এমনকি একটি সময়ে সংবাদপত্রে তাকে মৃত হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। চরম শারীরিক ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলেও কর্মক্ষমতা হারিয়ে অটোরিকশা চালানোসহ নানা কায়িক পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেন তিনি।
দুঃসময়ে নিজের রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন সাব্বির। এমনকি দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেও মেলেনি কোনো সুরাহা। মিথ্যা আশ্বাস ও দীর্ঘ ১৩ বছরের চরম হতাশার পর গণমাধ্যমে তার জীবনসংগ্রামের সংবাদ প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রতিমন্ত্রী তাকে নিজের প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি দেন। বর্তমানে সাব্বির পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা ও মাছের খামারের হিসাব-নিকাশসহ সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন এবং সম্মানজনক বেতনে স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। চাকরি পেয়ে আবেগাপ্লুত সাব্বির ও তার পরিবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়ায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন।