ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

দেশের অন্যতম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হলো শোলাকিয়া ময়দানে


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ মে, ২০২৫ সময় : ৯:১২ এএম

মামুন উজ্জ্বল,কিশোরগঞ্জ:

দেশের অন্যতম বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানে। পবিত্র ঈদুল ফিতরে এবারের জামাতে নামাজ আদায় করেছেন প্রায় ৪ লাখ মুসুল্লি। সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০ টায় ১৯৮ তম ঈদ জামাত শুরু হয়। এতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।


এর আগে ফজর বাদ থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহের দিকে আসতে থাকেন। সকাল ৯টার দিকে মাঠ মুসুল্লিদের সমাগমে ময়দান কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। তখনও শোলাকিয়ার মাঠের দিকে আসতে থাকেন লোকজন। অবশেষে লোকজন মূল মাঠে জায়গা না পেয়ে আশপাশে রাস্তাঘাট,বাড়ির ছাদে অবস্থান নিয়ে নামাজ আদায় করেন। রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে মুসল্লিদের সংকেত দিতে শর্টগানের ছয়টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

৩টি জামাত শুরুর ৫মিনিট আগে, ২টি ৩মিনিট আগে এবং শেষটি জামাত শুরুর ১ মিনিট আগে ছোড়া হয়। প্রতিবারের মতোই দূরের মুসল্লিদের জন্য শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করেছিলো রেলওয়ে। সকাল ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে এবং পৌনে ৬ টায় ভৈরব থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রেন  দুটি কিশোরগঞ্জ পৌঁছায় সকাল ৮টায়। জামাত শেষে ট্রেন দুটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় দুপুর ১২টায়।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদের জামাতকে ঘিরে নেয়া হয় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যাবস্থা। চার স্তরের নিরাপত্তা নিচ্ছিত বলয়ে ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ছাড়াও ৫ প্লাটুন বিজিবি। মাঠে প্রবেশের আগে মুসল্লিদের চারটি নিরাপত্তা চৌকি পার হতে হয়। প্রতিটি প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশির পর আর্চ ওয়ের ভেতর দিয়ে মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। ৬৮টি সিসি ক্যামেরায় মনিটর করা হয় মাঠের ভেতর ও চারপাশ।


ঈদগাহের চারপাশে ৬টি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়। চারটি শক্তিশালী ড্রোন ক্যামেরা মনিটর করে চারপাশ। প্রস্তুত ছিল বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিট। এছাড়া ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে ঈদগাহের ভিতর এবং বাইরের এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ঈদুল ফিতরের জামাতে উপস্থিত ছিলেন-কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরশাদ মিয়া প্রমুখসহ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন।

কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীর ঘেষে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। সেখানে প্রতিবছর ঈদের নামাজে মুসল্লিদের ঢল নামে। প্রায় আড়াইশো বছরের প্রাচীন শোলাকিয়া ঈদগাহের আয়তন প্রায় ৬ একর। ১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহে এক লাখ ২৫ হাজার বা ‘সোয়া লাখ’ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’, যা এখন শোলাকিয়া নামে পরিচিত। বড় জামাতে এক কাতারে দাঁড়িয়ে এই মাঠে নামাজ পড়লে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, এমন বিশ্বাসে প্রতি বছর ঈদের জামাতে অংশ নেন, দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি। বংশ পরম্পরায় এখানে ঈদের নামাজ পড়ছেন অনেকে। ঈদের নামাজ শেষে খুতবা পাঠ ও মোনাজাতে মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

আকাশজমিন/আরআর

 

 

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর