ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি

বিচার দাবি পরিবার ও স্থানীয়দের

টাঙ্গাইলে জিনিয়ার প্রেমের বলি কিশোর রাসেল


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ মে, ২০২৫ সময় : ৫:২৮ এএম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি॥

টাঙ্গাইলে প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ঘটনায় পরিবারের মধ্যে শোকের মাতন চলছে। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছেন। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ প্রেমের বলি হয়েছেন রাসেল।

এদিকে এঘটনায় নিহতের ভাই বুধবার (২ এপ্রিল )রাতে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেমিকা জিনিয়া আক্তার তমাকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠিয়েছে টাঙ্গাইল থানা পুলিশ।

নিহত রাসেল (১৫) সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকার চান মিয়ার ছেলে।প্রেমিকা ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকার জহিরুল ইসলামের মেয়ে জিনিয়া আক্তার তমা। বর্তমান জিনিয়ার বাড়ি ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকায় এবং টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়ন ও ডাকঘর বরাটি পাটুলী পশ্চিম পাড়া জিনিয়ার গ্রামের বাড়ি।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিহতের বাসার পাশেই প্রেমিকা জিনিয়া আক্তার তমার বাসা। স্থানীয় লোকজন নিহতের ছেলের বাসায় ভিড় করছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এমন মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

এর আগে গত বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকায় রাসেলের নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরকীয়া ওই প্রেমিকাকে গাছে বেঁধে রাখে স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর থেকে জিনিয়া আক্তার তমার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, প্রেমের সম্পর্ক ছিল রাসেল ও জিনিয়া আক্তার তমার মধ্যে। জিনিয়া আক্তার তমার বিয়ে হয়ে গেছে এক প্রফেসরের সঙ্গে এবং একটি ছেলেও আছে তাদের। কিন্তু বিয়ের পরেও জিনিয়া আক্তার তমা রাসেলের সাথে প্রেমের সর্ম্পক চালিয়ে যান। প্রথম পর্যায়ে জিনিয়া তার স্বামীকে ছেড়ে রাসেলকে বিয়ে করবে বলে আশ্যস্থ করে। পরে জিনিয়া আক্তার তমা রাসলকে বিয়ে করবে না বলে জানায়। এ নিয়ে জিনিয়া আক্তার তমার সাথে রাসেলের হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তা চলতে থাকে। গত ১ এপ্রিল রাসেল প্রথমে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। কিন্ত পরে বুধবার রাসেল জিনিয়া আক্তার তমাকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও কলে রেখে ফলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে ঘরের জানালা ভেঙে রাসেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আত্মহত্যার বিষয়টি জানাজানি প্রেমিকা জিনিয়া আক্তার তমাকে এলাকাবাসী আটক করে গাছের সঙ্গে বেধে রাখে। পরে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এসে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রেমের সর্ম্পকের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকার জহিরুল ইসলামের মেয়ে জিনিয়া আক্তার তমার সাথে একাধিক ছেলের সাথে সর্ম্পক ছিলো।

নিহতের ভাই মোহাম্মদ সামি বলেন, জিনিয়া আক্তার তমার এক ছেলে সন্তান রয়েছে। জিনিয়া বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে আমার ভাইকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এর আগেও ওই মেয়েটি অন্য ছেলেদের এমন কাজ করেছে। জিনিয়া আক্তার তমা তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে আমার ভাইকে বিয়ে করার কথা বলেন। কিন্ত ঘটনার দিন  জিনিয়া আক্তার তমা আমার ভাইকে জানায় বিয়ে করবে না এবং তার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে পারবে না। আমার ভাইয়েরসাথে কোন সর্ম্পক রাখবে না। বিষয়টি মেনে না দিতে পারায় জিনিয়া আক্তার তমাকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার পিছনে ওই মেয়েটির হাত রয়েছে।

নিহতের বোন তানিয়া বলেন, ‘আমি ন্যায্য বিচার চাই। ভিডিও কলে আমার ভাইকে মরবার কইছে। ওই যদি ভালো হতো তাহলে আমার ভাইকে বাঁচাইতো। আমি ওই মেয়ে জিনিয়া আক্তার তমার ফাঁসি চাই।’

নিহতের বাবা চান মিয়া বলেন, আমি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু শাস্তির দাবি করছি। এই মেয়ের জন্য আর কোন মায়ের কোল খালি না হয়।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানবীর আহমেদ বলেন, এঘটনায় নিহতের ভাই বুধবার রাতে জিনিয়া আক্তার তমাকে আসামী করে আত্মহত্যা পরোচনার অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেমিকা জিনিয়া আক্তার তমাকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর