ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

বিদেশি কূটনৈতিকদের নারী কেলেঙ্কারি


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ মে, ২০২৫ সময় : ২:৫২ এএম

রাষ্ট্রীয় কূটনীতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা কতিপয় বিদেশি কূটনীতিকদের নারী কেলেঙ্কারিসহ অনৈতিক কর্মকান্ডের জড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে এদেশীয় বিভিন্ন আদম ব্যবসায়ী, এনজিও রাজনীতিবিদ ও বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ তাদের স্বার্থে বিদেশি কূটনীতিকদের উৎসাহিত করার কারণে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি বলে সংশ্লিষ্ট ওরা মনে করেন। সম্প্রতি বিদায়ী সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশী এক আলোচিত মডেলের সাথে অনৈতিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ঘটনা রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে তোলপাড় তৈরি করায় অনেক কূটনীতিকের অনৈতিক কর্মকান্ড আলোচিত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের  অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে পরিচিত হওয়ার পর কারো কারো সম্পর্ক গড়ায় অনৈতিক পর্যায়ে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে এদেশীয় বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি, এনজিও ও ব্যবসায়ী গ্রুপ তাদের স্বার্থে দূতাবাসের কূটনীতিকদের ম্যানেজ করার জন্য সুন্দরী ট্রাম্প ব্যবহার করে।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়  বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার কূটনৈতিক ডেলিগেট টিমে সুন্দরী স্মার্ট কর্মকর্তাদের মনোনীত করা হয়। বিদেশি অতিথি ও কূটনীতিকদের আলোচনা শেষে ব্রিফিংয়েও তাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়। জানাযায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক কাউন্সিলর, লেবার কাউন্সিলর, ও ভিসা কাউন্সিলর সাথে এ দেশীয় স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। তবে এই সম্পর্ক আন্তর্জাতিক মর্যাদাসম্পন্ন নীতিমালা অনুযায়ী থাকা উচিত বলে মনে করেন কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এগুলি অনাকাঙ্ক্ষিত অনভিপ্রেত। সম্পর্ক অবশ্যই কূটনীতিক শিষ্টাচারের মধ্যে থাকতে হবে। অনৈতিক কর্মকান্ড সব জায়গাতেই মর্যাদা হানি করে। এগুলি কোন কূটনীতিক চেষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। দুই দেশেরই মর্যাদা ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমাদের কারোরই কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও রাষ্ট্রীয় সামাজিক মর্যাদা বহির্ভূত কিছু করা উচিত হবে না।

বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের শিষ্টাচার পালনের আমাদের সকলকে সহায়তা করা উচিত।  বিদায়ী সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাথে মডেল মেঘনার সম্পর্ক ও পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূতের কাছে চাঁদা দাবি বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোড়ন তৈরি করলেও এটি কূটনীতিকদের প্রথম ঘটনা নয়। কূটনীতিকদের নারী কেলেঙ্কারি প্রথম আলোচনায় আসে ২ দশক আগে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত  শাহাতা জারারের সাথে এক আলোচিত নারীর সম্পর্কের বিষয়ে। সেই থেকে প্রেম , পার্টিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ বন্ধুত্ব অনেক দূর গড়ায়। তারই মধ্যস্থতায় পরবর্তীতে বিয়েও হয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাবেক ডিসি ডঃ নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন যে কোন ক্ষেত্রে কাজ আদায়ের সুন্দরী ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে অনেক নারীবাদীরা আপত্তি করতে পারে তবে কোথাও অনৈতিক কিছু করা ঠিক হবে না। নৈতিকতা হচ্ছে সকল ধর্মের সেবার বৃত্তি। কূটনৈতিক দের অবশ্যই আন্তর্জাতিক মর্যাদা অনুযায়ী শিষ্টাচার পালন করা উচিত। কারো বিরুদ্ধে কোন অনৈতিক অভিযোগ উঠলে আন্তর্জাতিক অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ বিলম্ব হলে তাকে অপসারণ করা হয়। এই বিষয়টি আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্মান মর্যাদা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে গিয়ে আমাদেরও তাদেরকে শিষ্টাচার অনুযায়ী সহায়তা করতে হবে।

এদিকে সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলানের সাথে বাংলাদেশি মডেল মেঘনা আলমেকে জড়িয়ে নতুন নতুন তথ্য বের হচ্ছে। মেঘনা আলম ও তার ব্যবসায়িক সহযোগীদের আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বলা হয়েছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষায় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের আটক করা হয়েছে। তারা ব্ল্যাকমেইল করে সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে  পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। তবে মেঘনার বাবা বদরুল আলম গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, সৌদির সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের প্রতারণার শিকার হয়েছেন তার মেয়ে। পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ের প্রেমের সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে বিয়েও করতে চান রাষ্ট্রদূত। গত ৪ ডিসেম্বর মেঘনা ও দুহাইলানের আংটি বদল হয়েছিল বলে দাবি করেন বদরুল। তবে দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি তিনি।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কেবল সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতই নন, সুন্দরী নারী দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রদূত এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের চেষ্টায় জড়িত একটি চক্র। ইসা বিন ইউসেফ আলদুহাইনের কাছ থেকেও বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছে ওই চক্র। এ ঘটনায় প্রতারণার মামলায় মডেল মেঘনা আলমের সহযোগী কাওয়াই প্রতিষ্ঠানের সিইও ও সানজানা ম্যানপাওয়ার প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. দেওয়ান সমিরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 দেওয়ান সমির বিভিন্ন সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও অবৈধ সম্পর্ক তৈরি করে। পরবর্তীতে সুকৌশলে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। আসামিরা বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ইসা বিন ইউসেফ আলদুহাইনকে টার্গেট করে গত বছরের জানুয়ারি মাস হতে এখন পর্যন্ত সখ্যতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ফাঁদে ফেলে পাঁচ মিলিয়ন ডলারও দাবি করা হয়। এ ঘটনার বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানাজানি হওয়ায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি হুমকির সম্মুখীন হয়।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায় প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীর গুলশান বনানী ও বারিধারার পাঁচতালাকা হোটেল ও অভিজাত ফ্ল্যাটে বিদেশি কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে পার্টির আয়োজন করা হয়। জাতীয় সুন্দরী নারী মডেল সহ পানীয় খানাপিনা সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ আদম ব্যবসায়ী রা এর আয়োজন করেন।

বিদেশি কূটনীতিকরাও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরো উন্নতি করতে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে বিভিন্ন পার্টিতে অনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নেন। ইউরোপীয় পশ্চিমা দেশের মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তা, চায়না ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কিছু কূটনীতি এগুলিতে অংশ নিতে দেখা যায়। এছাড়াও প্রভাবশালী দেশগুলির নিয়োজিত এজেন্ট ও ব্যবসায়ীরা এ ধরনের অনুষ্ঠানের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বলে জানা গেছে।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর