সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার
শ্যামনগরে ৩০ বিঘা আয়তনের
একটি সরকারি খাল জবর দখলে
নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা
থাকা সত্বেও উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আব্দুল আল কাইয়ুম আবুর
নেতৃত্বে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের
কর্মীরা জেলেখালী জলমহাল নামীয় উক্ত খাল দখল
করে বলে অভিযোগ।
সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালী গ্রামে ঘটনাটি ঘটার পর রাতে উভয় পক্ষ শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। দখলে বাঁধা সৃষ্টির ঘটনায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে সুশান্ত সরদার (৩৫)সহ চারজন আহত হলেও দু’জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার
প্রত্যক্ষদর্শীসহ গ্রামবাসীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জেলেখালী জলমহালটি
স্থানীয় তাহমীনা এতিমখানা, লিল্লাহ বোডিং ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ
ভোগদখল করছে। এতিম শিশুসহ সেখানে
অধ্যায়নরত ছাত্রদের ভরোণ পোষনের পাশাপাশি
মাদ্রাসার উন্নতিকল্পে উক্ত জলমহাল থেকে
অর্জিত অর্থ ব্যয় করা
হয়।
মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মোঃ ইছহাক আলীর ভাষ্য জেলেখালী জলমহাল ইজারা নিয়ে সরকারের সাথে তার পরিবারের মামলা চলছে। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে মাননীয় উচ্চ আদালত উক্ত খালের উপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। সম্প্রতি ছাত্রদল আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম আবু খালটি জবর দখলের ঘোষনা দেন। একপর্যায়ে সোমবার বিকালে দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত প্রায় আড়াইশ লোকজন নিয়ে তিনি খালটি জোরপুর্বক দখল করে নিয়েছে। এসময় ইজারা গ্রহীতা সুশান্ত সরদার, আবুল হোসে ও আব্দুল আজিজ নামের তিনজনকে বেপরোয়া মারপিট করা হয়েছে। জবর দখলের সময় তারা খাল পাহারার বাসা ভাংচুরসহ সেখানে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও উপজেলা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার কর্মী সমর্থকরা দখল কান্ডে জড়িত বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ফ্যাসিষ্টের দোসররা দীর্ঘদিন ধরে উক্ত খাল ভোগ করেছে। পরিবর্তি পরিস্থিতিতে তাদেরকে কোনভাবে ঐ খাল খেতে দেয়া হবে না বলে এলাকার লোকজন খালটি দখলে নিয়েছে। দখল কান্ডের নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, সবাই যদি আমাকে নেতা মেনে আমার নেতৃত্বে দখলের কথা বলে তবে আমি গর্বিত অনুভব করবো।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হুমায়ুন কবির মোল্যা জানান, সংঘর্ষের খবরে তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষের দু’জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বত কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ রনী খাতুন জানান, বিজ্ঞ আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছে সেই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। দ্বিতীয় কোন আদেশ না হওয়া পর্যন্ত আদালত যেভাবে উভয়পক্ষকে থাকতে হবে।
আকাশজমিন/আরআর