ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

ধনবাড়ীতে আবাদ হচ্ছে কোকোর চাষ ॥ বানিজ্যিক সম্ভাবনার আশা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৭ মে, ২০২৫ সময় : ৭:৩৭ পিএম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি॥

 দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ‘ঈশ্বরপ্রদত্ত ফল হিসেবে খ্যাত কোকো এখন বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলায় চাষ হচ্ছে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার হাজরাবাড়ী গ্রামের এক সৌখিন বৃক্ষপ্রেমিক তাপস বর্ধন বাড়ির পাশের বাগানে কোকো গাছ লাগিয়ে এর সফল চাষে উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

চার বছর আগে তাপস বর্ধন তার বাগানে ১৭টি কোকো গাছ লাগান। এবার সেগুলোর একটি গাছে এসেছে ১২০টি ফল, যেখান থেকে ঘরোয়াভাবে তিনি দুই কেজি কোকো পাউডার সংগ্রহ করেছেন। বাকিগুলোতেও আগামী বছর থেকে ফল আসবে বলে তিনি আশা করছেন। এসব ফল থেকে সংগ্রহ করা বীজে তিনি নিজেই নার্সারি করেছেন এবং আগামী জুলাই মাসে বাগানে আরও দেড় শতাধিক গাছ লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তাপস বর্ধনের কোকো চাষের গল্পটি ব্যতিক্রমী হলেও অনুপ্রেরণামূলক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল চত্বর থেকে ২০১৮ সালে সংগৃহীত একটি কোকো ফলের বীজ থেকেই শুরু তার এই যাত্রা। উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প বিভাগ থেকে। কিন্তু প্রকৃতি ও বৃক্ষের প্রতি ভালোবাসা তাকে নিয়ে গেছে গাছপালার জগতে।

তাপস বর্ধন বলেন, কোকো গাছ খরা ও অতিবৃষ্টির মতো প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করতে পারে। তবে জলাবদ্ধতা একেবারেই সহ্য করে না। এটি রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে অনেকটাই নিরাপদ এবং তেমন যত্নেরও প্রয়োজন হয় না। সারা বছর গাছে ফুল এলেও নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ফুলের প্রাচুর্য বেশি দেখা যায়। এতে বছরজুড়েই ফল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার বিভাগ বিগত ২০১৪ সালে প্রথম ভিয়েতনাম থেকে কোকো গাছের চারা এনে সাভারে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করেছিল। যদিও বর্ধনশীল ফলন পাওয়া গেলেও বানিজ্যিকভাবে চাষের দিকে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি।

কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশের কোকোর বাজার পুরোপুরি আমদানি নির্ভর। পাহাড়ি কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে কফির আবাদ হচ্ছে। কোকোর বানিজ্যিক চাষে আগ্রহী হলে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। তবে এটি লাভজনক হতে পারে।

তাপস বর্ধনের কোকো চাষ ইতোমধ্যেই আশপাশের মানুষের আগ্রহ জাগিয়েছে। অনেকেই তার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে গাছ লাগাতে শুরু করেছেন। তার এই উদ্যোগ হয়তো ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কোকো চাষের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

 

আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর