ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

চলনবিলে বর্ষার আগমনে নৌকা তৈরির ধুম


  • আপলোড সময় : রবিবার ২২ জুন, ২০২৫ সময় : ৬:৪৪ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

বর্ষার আগমনে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত চলনবিলের মানুষ কারণ এই নৌকাই বর্ষাকালে চলনবিল এলাকার মানুষের পারাপারের একমাত্র বাহন। বিল এলাকার মানুষের শুষ্ক মৌসুমের ৮ মাস পায়ে হেঁটে এবং বর্ষা মৌসুমের ৪ মাস নৌকায় চলাচল করতে হয়। তাই এখা‌নে প্রবাদ আছে ‘বছরে ১২ মাসের ৪ মাস নায়ে, আর ৮ মাস পায়ে। এজন‌্যই বর্ষাকে সামনে রেখে নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে চলনবিল এলাকায়।

জানা যায়, চলনবিলের চাটমোহর, গুরুদাসপুর, চাটমোহর, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর ও আত্রাই উপজেলায় বসবাসরত বেশিরভাগ গ্রামের মানুষ বর্ষার সময় প্রায় ৪ মাস সময় ধরে পানিবন্দি থাকে। এসব পানিবন্দি মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। তাই বর্ষা এলেই এলাকায় নৌকার কদর বেড়ে যায়, সঙ্গে কদর বাড়ে নৌকা তৈরির কারিগরদেরও। বর্ষা আসার আগ থে‌কেই শুরু হয় নতুন নৌকা তৈরি আর পুরাতন নৌকা মেরামতের কাজ। সম্প্রতি চলনবিলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কারিগররা নতুন নৌকা তৈরি এবং পুরাতন নৌকা মেরামতে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন।

তাড়া‌শের নৌকা তৈরির কারিগর কৃষ্ণ জানান, চলনবিল এলাকায় সাধারণত শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ডিঙ্গি নৌকা ও বাইচের এই ৩ ধরনের নৌকা তৈরি হয়। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা তৈরি করতে লা‌গে ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা। ছোট ডিঙ্গি নৌকা ও মাছ ধরার নৌকা তৈরীর খরচ অ‌নেকটাই কম। ৯ হা‌তের এক‌টি নৌকার দাম ৩৫০০ টাকা ও ১০ হা‌তের এক‌টি নৌকার দাম ৪৫০০ টাকা। ডিঙ্গি নৌকার ম‌ধ্যে সাধারণত এই দুই ধর‌নের নৌকার চা‌হিদাই বেশী। তবে বিল এলাকায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মালবাহী এবং যাত্রীবাহী নৌকার কদরও বেশ। এ ছাড়াও ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা মাছ ধরার ও বাইচের নৌকা তৈরি করছে কারিগররা। বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। নৌকা চালকদের আঞ্চলিক ভাষায় মাঝি বলা হয়। মাঝিরা নিজের আবার অন্যের নৌকা চুক্তিভিত্তিক চালিয়ে অর্থ উর্পাজন করেন।

নওগাঁ হাটে নৌকা কিনতে আসা পিন্টু আলী নামের একজন জানান, ‘আমাদের গ্রামটি চলনবিলের মাঝখানে। সামান্য বর্ষাতেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বর্ষার সময় একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা। বন্যার পানি নদী দিয়ে খাল-বিলে ঢুকতে শুরু করছে। তাই নৌকা কিনতে এসেছি। তবে এ বছর নৌকার দাম একটু বেশি।

চলনবিলের মধ্যস্থলে অবস্থিত লালুয়ামাঝিরা গ্রামের মাঝি মো. ফি‌লিপ জানান, একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা তৈরি করতে ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা বা নৌকার পরিধি অনুযায়ী এর চেয়ে বেশি টাকা ব্যয় হয়। তাই অনেকের ইচ্ছা থাক‌লেও বড় নৌকা তৈরি করতে পারেন না। যারা অর্থাভাবে নৌকা তৈরি করতে পারে না তারা চুক্তিভিত্তিক অন্যের নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। নৌকা তৈরি কারিগর দুলাল হোসেন জানান, সারা বছর তাদের ম‌তো কা‌রিগর‌দের বসে অলস সময় পার করতে হয়। বর্ষা মৌসুমের ৩-৪ মাস তারা ব্যস্ত সময় পার করেন। নৌকা তৈরীর প্রধান উপকরণ কা‌ঠও আ‌গের ম‌তো পাওয়া যায় না। যাও পাওয়া যায় তার দামও আ‌গের চে‌য়ে অ‌নেক বেশী তাই লা‌ভের প‌রিমানও ক‌মে গে‌ছে। অন‌্য পেশায় যে‌তে পা‌রিনা তাই আক‌ড়ে ধ‌রে আছি। ‌তি‌নি আক্ষেপ ক‌রে ব‌লেন মা‌ঝিরা য‌দি আ‌গে থে‌কে নৌকা তৈরীর চা‌হিদা দি‌তো ত‌বে তা‌দের জন‌্য ভা‌লো হ‌তো।

আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর