নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর রায়পুরায় বন্ধুদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ স্কুল ছাত্র সিয়াম মিয়া (১৬) এর লাশ ৪০ ঘন্টা পর উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৬টায় সিয়ামের লাশ মেঘনা নদীতে ভেসে ওঠেছে। জানাগেছে, বুধবার (২৫ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার পান্থশালা ফেরিঘাট মেঘনা নদীর ঘাটে বন্ধুদের সাথে গোসল করতে গিযে নদীতে ঝাপ দিযে নিখোজ হয় সিয়াম।এ ঘটনার পর নিখোঁজ ছেলেটার খোজে ফায়ার সার্ভিস ডুবুরিদল তাকে খুজে পায়নি।
নিখোঁজ সিয়াম উপজেলার উত্তর বাখাননগর এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী জুনায়েদ মিয়ার একমাত্র ছেলে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। সিয়ামের বন্ধু সাকিব আল হাসান জানান, ১১ বন্ধু মিলে পান্থশালা ফেরিঘাটে মেঘনা নদীতে গোসল করতে আসে। এক পর্যায়ে কয়েকজন জেটি থেকে নদীতে ঝাঁপ দেয়। বন্ধুদের দেখাদেখি সিয়ামও ঝাঁপ দিলে মুহূর্তেই প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায় সে। এরপর থেকে নিখোঁজ রয়েছে সিয়াম।
খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে রায়পুরা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে তাদের নিজস্ব ডুবুরি না থাকায় টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তা চাওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি, ফলে উদ্ধার অভিযানে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান রায়পুরান ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার নাসির উদ্দিন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিন সন্তানের মধ্যে সিয়াম ছিলেন একমাত্র ছেলে। সাঁতার না জানার পরও বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে নেমেছিলেন তিনি। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সিয়ামের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নদীর পাড়ে মায়ের আহাজারিতে আকাশ জমিন ভারি হয়েছে । ছেলেকে খুঁজে ফিরতে ফিরতে একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ জানান, পরিবারের সদস্যদের কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই মর্মে আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁর লাশ বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হচ্ছে।
আকাশজমিন/আরআর