ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

কিশোরগঞ্জের তিন শহস্রাধিক গোরখোদক মনু মিয়া আর নেই!


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৮ জুন, ২০২৫ সময় : ৪:২১ পিএম

কিশোরগঞ্জ ব্যুরোঃ

কিশোরগঞ্জের তিন শহস্রাধিক গোরখোদক মনু মিয়া (৬৭) আর নেই! শনিবার (২৮ জুন) প্রায় সাড়ে দশটার দিকে তিনি নিজ বাড়ি জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মনু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁরই ভাতিজা শফিকুল ইসলাম। নিঃসন্তান মনু মিয়া মৃত্যুর পূর্বে তিনি ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে আনা হয়।

জানা যায়, জীবনের প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কবর (গোর) খননের এই মহান কাজ করে আসছিলেন মনু মিয়া। ইটনাসহ হাওরে শেষমেষ সারাদেশে তিনি পরিচিত পেয়েছিলেনশেষ ঠিকানার কারিগরনামে। কবর খনন করতে প্রায়শ তিনি দূর-দূরান্তে যেতে হতো তাই সে জায়গায় দ্রুত যাওয়ার জন্য জমি বিক্রি করে একটি ঘোড়া কিনেছিলেন। ইটনা এলাকার সন্তান ঢাকায় আইনপেশায় যুক্ত অ্যাডভোকেট শেখ মো. রোকন রেজা জানান, অসুস্থ অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময় দুর্বৃত্তরা তার বহু বছরের সঙ্গী প্রিয় ঘোড়াটিকে হত্যা করে।


এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি আলোচিত হলে দেশি-বিদেশ সহানুভূতিশীলরা মনু মিয়াকে দামি ঘোড়াসহ নানা সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন কিন্তু মনু মিয়া কারও সহায়তা নিতে রাজি হননি। তিনি হাসপাতালে শষ্যশায়ী থেকে শুধু সবার কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছিলেন, আবার যেন সুস্থ হয়ে যাতে কবর খুঁড়তে পারেন। চিকিৎসা শেষে গত ছয়দিন আগে বাড়ি ফিরলেও তিনি আর আগের মতো প্রাণচঞ্চল ছিলেন না। স্থানীয়রা জানান, মনু মিয়া শুধু একজন কবর খননকারী ছিলেন না, ছিলেন মানবিকতার প্রতীক।

তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক শোক শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে তাকে। আজ শনিবার তাঁর লাশ দাফনের জন্য কবর খননের প্রস্তুতি চলছে। বিকেলে নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে। প্রসঙ্গত মনু মিয়ার ডায়েরিতে পাওয়া তথ্যানুযায়ী জানা যায়, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অন্তত হাজার ৫৭টি খুঁড়েছেন।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর