ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

বাঙ্কার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ভারত


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৩ জুলাই, ২০২৫ সময় : ৭:২৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে বাঙ্কার ধ্বংস করতে সক্ষম (বাঙ্কার বাস্টার) ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ভারত। অগ্নি-৫ নামের এই আন্তঃমহাদেশীয় (আইসিবিএম) ক্ষেপণাস্ত্রটির দুটি সংস্করণ তৈরি হচ্ছে। ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলাপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এই অগ্নি-৫ তৈরি করছে। এই অগ্নি-পাঁচ মাটি ৮০ থেকে ১০০ মিটার গভীরে গিয়ে কংক্রিটের আস্তরণ ভেদ করতে পারবে বলে দাবি করা হচ্ছে। সাড়ে সাত হাজার কিলোগ্রাম পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করে নিয়ে যেতে পারবে এই ক্ষেপণাস্ত্র।

এই ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি সংস্করণের  একটি আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে সাড়ে সাত হাজার কিলোগ্রাম পর্যন্ত বিস্ফোরক নিয়ে বাঙ্কার ধ্বংসের কাজ করবে। এটা সুপারসনিক অর্থাৎ শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে এগোতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় সংস্করণটি  পাঁচ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারবে।

সম্প্রতি ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে বাংকার বাস্টার বোমা জিবিইউ ৫৭ ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন। ভারতের অগ্নি-পাঁচ-ও যুক্তরাষ্ট্রের বাংকার বাস্টার জিবিইউ ৫৭-র মতোই শক্তিশালী হবে বলে দাবি করা হয়েছে। বাংকার বিধ্বসী ক্ষেপণাস্ত্র হলো এক বিশেষ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র যা মাটির গভীরে ঢুকে লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে এবং সামরিক বাঙ্কার, কমান্ড সেন্টার, মিসাইল রাখার জায়গা ও অস্ত্রভাণ্ডারে গিয়ে আঘাত করতে পারে। সাধারণ যুদ্ধাস্ত্র বা বোমা মাটির উপর গিয়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণ হয়। কিন্তু বাংকার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মাটির ভিতর ঢুকে কংক্রিটে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটোন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য ডিডাব্লিউকে জানিয়েছেন, “এটা একটা ডেটারেন্ট হিসাবে কাজ করবে। যে কোনো দেশের মাসল পাওয়ার বাড়ানোর দরকার হয়। কোনো সন্দেহ নেই, ভারতের সামরিক বাহিনীর কাছে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। ভারতের হামলার পর পাকিস্তানের ভাওয়ালপুরের পরিস্থিতি

উৎপল ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “এই অস্ত্র মাটির গভীরে চলে যেতে পারে। কয়েকটা পর্যায়ে এর ডেটোনেশন হয়। প্রথমে ওপরে হয়, তারপর ভিতরে ঢুকে বারবার তা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। এটা নির্দিষ্ট একটি কোণে রাখতে পারলে টার্গেটে সবচেয়ে ভয়ংকর আঘাত করতে পারে। তাই এই অ্যাঙ্গেল বা কোণটা খুবই জরুরি।

 

তিনি জানিয়েছেন, ''এখন মার্কিন বাঙ্কার বাস্টার দেখার পর ভারতের এই প্রয়াস নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে ভারত আগেই এই অস্ত্র বানাবার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।'' আধুনিক যুদ্ধে এই বাঙ্কার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রকে খুব জরুরি বলে মানা হয়। কারণ, অন্য দেশের কম্যান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রগুলি এখন মাটির নিচে থাকে। অস্ত্র, জ্বালানি, রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্রও মাটির তলায় রাখা হয়। সেগুলিতে আঘাত করতে চাইলে বাঙ্কার বাস্টার দরকার হয়। সেখানেই এর গুরুত্ব।

প্রবীণ সাংবাদিক জয়ন্ত রায়চৌধুরী বলেছেন, “পাকিস্তান ও চীন মাটির নিচে বাংকার, ক্ষেপণাস্ত্র রাখার জায়গা, কম্যান্ড পোস্ট তৈরিতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। তাই মাটির তলার পরিকাঠামো ভাঙতে গেলে ভারতের হাতেও অস্ত্র থাকা দরকার। চীনের হাতেও বাঙ্কার বাস্টার ডিএফ ১৫ আছে, এই ধরনের অস্ত্র হাতে থাকলে অন্য দেশও ভারতকে আক্রমণ করার আগে দু-বার ভাববে।

আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর