কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি / : 180
কোটালীপাড়া(গোপালগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
বিদ্যালয়ে
হঠাৎ নতুন স্কুল ব্যাগ নিয়ে হাজির হলেন ইউএনও। তার কাছ থেকে ব্যাগ উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত
হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি শিশুর মুখে ফুটে ওঠে হাসি, মনে জাগে অপার আনন্দ। আজ
বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
মো. মাসুম বিল্লাহ তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬০ জন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন
স্কুল ব্যাগ তুলে দেন।
এ
সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস. এম. শাহজাহান সিরাজ, পল্লি উন্নয়ন
কর্মকর্তা আবু তাহের হেলাল, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বাসুদেব বিশ্বাস, বিদ্যালয়ের পিটিএ
কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকবৃন্দ।
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শ্রেষ্ঠা রত্ন বলে, “এতোদিন সবাই একই শার্ট-প্যান্ট, জুতা আর টাই পরে এলেও ব্যাগগুলো ছিল আলাদা। অনেকের তো ব্যাগই ছিল না। শ্রেণিকক্ষে বৈষম্য মনে হতো। ভাবতাম, ইস যদি সবার ব্যাগ এক হতো! আজ ইউএনও স্যার আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন।” নতুন ব্যাগ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী রাফি বলে, “আমার পুরনো ব্যাগ ছিঁড়ে গিয়েছিল। আজ নতুন ব্যাগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে।”
অভিভাবকরা
জানান, গ্রামের অনেক পরিবারই দরিদ্র। অনেকের পক্ষেই ব্যাগ বা টিফিন বক্স কেনা সম্ভব
হয় না। ইউএনও’র এই উদ্যোগে শিশুরা নতুন উদ্যমে স্কুলে যাচ্ছে। বাড়ছে উপস্থিতিও। বিদ্যালয়ের
প্রধান শিক্ষক অশোক অধিকারী বলেন, “এই সহায়তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ
তৈরি করেছে। আগে কেউ কেউ ছেঁড়া ব্যাগ নিয়ে আসত, অনেকে ব্যাগই আনতে পারত না। এখন সবাই
গুছিয়ে স্কুলে আসছে।”
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বাসুদেব বিশ্বাস বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করে তুলবে। প্রাথমিক শিক্ষায় এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, “শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে এবং পড়ালেখায় আগ্রহ বাড়াতে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চাই না কেউ শুধু অভাবে স্কুলছুট হয়ে যাক।”
তিনি
আরও বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমেই শিশুদের স্কুল জীবন শুরু হয়। এই ধাপকে এগিয়ে
নিতে আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। শিক্ষা উপকরণ বিতরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া, ভবিষ্যতে
আরও বিস্তৃতভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।”
আকাশজমিন/আরআর