ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় আদিবাসীদের অস্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে ভারত


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৭ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৩:০৭ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া ভারতের আসাম রাজ্যের সরকার স্থানীয় ‘আদিবাসী বাসিন্দাদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আসামের  কট্টর হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় রাজ্যের মুসলিমদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, অসমীয়া ভাষাভাষী জনগণ ‘‘বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে, এমনকি নিজেদের গ্রামেও হামলার হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন।’’

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার এই রাজ্য জাতিগত, ভাষাগত ও ধর্মীয় দিক থেকে বিভাজিত এবং বিগত কয়েক দশকে বহু রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সাক্ষী হয়েছে। ২০১১ সালের সর্বশেষ জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী, আসামের প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম; যাদের বেশিরভাগই বাংলা ভাষী। এছাড়া বাকিরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার একটি ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাজ্যের যেসব আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিজেদের জীবনের জন্য হুমকি অনুভব এবং সংবেদনশীল এলাকায় বসবাস করেন, তারা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ভারতে সাধারণত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন অত্যন্ত কঠোর। কিন্তু রাজ্যজুড়ে হঠাৎ করে সবার জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স উন্মুক্ত করে দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসের আইনপ্রণেতা গৌরব গগৈ বলেছেন, ‘‘রাজ্য সরকারের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার এই উদ্যোগে গ্যাং সহিংসতা ও ব্যক্তিগত প্রতিশোধমূলক অপরাধ বৃদ্ধি পাবে। এটি সুশাসন নয়, বরং আইনহীনতার দিকে এক বিপজ্জনক পশ্চাৎগামী পদক্ষেপ।’’

 

ভারতের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। অসমীয়া ভাষাভাষী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে সমর্থন দিতে শর্মার বিজেপি সরকার যে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে এই উদ্যোগ তারই অংশ। এই অভিযানের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান, যাদের শর্মা ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী কিংবা সন্দেহভাজন নাগরিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

এই পদক্ষেপকে ব্যাপকভাবে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের নিশানা করেই নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হয়; যাদের মাতৃভাষা প্রতিবেশী বাংলাদেশের প্রধান ভাষা বাংলা। তবে অনেক জাতিগত বাঙালিই আসামের বহু পুরোনো বাসিন্দা ও তারা ভারতীয় নাগরিক। এমনকি ১৯৪৭ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের সময় বাংলাদেশ আলাদা হয়ে যাওয়ার অনেক আগে থেকেই তাদের শিকড় আসামে রয়ে গেছে।

 

২০১৯ সালে ভারতের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) আইন চালু করা প্রথম রাজ্য আসাম। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়া রাজ্যে চালু করার পর প্রায় ২০ লাখ মানুষ নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েন; যাদের অনেকেই মুসলমান।

 

বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির ঘনিষ্ঠ মিত্র স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর গত এক বছরে আসামে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর ‘‘আদিবাসী জনগণ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশে বসবাস করছেন।’’সূত্র: এএফপি।

 

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর