ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

৫০ হাজার হেক্টর আবাদি জমি বিলুপ্ত

তাড়াশে ৭ বছরে ৫ হাজার নতুন পুকুর খনন!


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৩ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৪:৩১ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বছরে প্রায় হাজার নতুন পুকুর খনন য়েছে এতে বিলুপ্তি প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর আবাদি কৃষি  জমি। তাড়াশ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি নির্ভর। তারা সারা বছর ধান, গম, পাট বিভিন্ন সবজি জাতীয় কোনো না কোনো ফসল উৎপাদন করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাড়াশে যত্রতত্র অনিয়মতান্ত্রিকভাবে তিন ফসলি দুই ফসলি কৃষি জমিতে পুকুর কাটা শুরু করে প্রভাবশালীরা। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এই উপজেলার ফসলি জমি। এভাবে চলতে থাকলে খাদ্য দ্রব্যের সংকট দেখা দেবে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

এলাকাবাসী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে প্রায় পাঁচ হাজার নতুন পুকুর খনন করেছে প্রভাবশালীরা। যা আগে ছিল তিন হাজার ১০০টি। আর বর্তমানে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে হাজার ২৮০টিতে। মৎস্য চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা অব্যাহত রয়েছে। আর যত্রতত্র পুকুর কাটায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকেরা সময়মতো চাষ আবাদ করতে পারছেন না। এর ফলে গত বছরে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর আবাদি জমি কমে গেছে। এতে করে খাদ্য ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। আর প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কর্মকাণ্ড চললেও তা দেখার কেউ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা।

কৃষক ্যাম জানান, তাদের এই মাঠে আগে বছরে তিনটি ফসল হতো। এখন তারা একটি ফসলও ঠিকমতো তুলতে পারছেন না। কারণ ফসলের একটু দেরি হলেই জলাবদ্ধতার কারণে পানি এসে তা ডুবিয়ে দেয়। এই জলাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় ফসল করা সম্ভব হচ্ছে না। যাদের বেশি জমি তারা পুকুর কাটছে। কিন্তু যাদের জমি অল্প তারা না পারছে পুকুর কাটতে না পারছে আবাদ করতে। প্রশাসনকে জানালে তাৎক্ষণিক পুকুর কাটা বন্ধ হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না।

আব্দুল হিম নামের আরেক কৃষক জানান, তাঁর জমিটি অন্য একজনের পুকুরের পাশে। অন্য জমির মালিক তাদের জমি বেশি হওয়ায় জমিতে পুকুর কেটেছেন। কিন্তু তার জমি অল্প তাই সে চরম বিপদে পড়েছেন। এখন তার জমিতে এক মাজা সমান পানি। পানির মধ্যে জমি পরিষ্কার করতে তার বিঘাতে -১০টা করে কামলা বেশি লাগছে। এভাবে ধান আবাদ করে তাকে লোকসান গুনতে হয়। আগে জোলা ছিল কিন্তু এখন জোলা নেই, এখন বাধ্য হয়ে নিজের খাওয়ার জন্য হলেও চাষ করতে হচ্ছে তাঁকে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের চরম বিপদ হবে বলে জানান এই কৃষক।

কৃষক আক্কাস, রহমত, বারিক, সামাদসহ নেক কৃষকই জানান, যেভাবে পুকুর কাটা হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে এক সময় দেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিবে। পুকুর কাটার কারণে যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে তাতে তারা ঠিকমতো আবাদ করতে পারছেন না। আর যদি আবাদ না হয় তাহলে তো খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে শতভাগ। বর্তমানে তিন ফসলি জমিতে প্রচুর পুকুর কাটা হচ্ছে। ব্যাপারে প্রশাসনকে জানালে তারা এসে ভেকুর ব্যাটারি নিয়ে যাচ্ছে। এতে - দিনের জন্য পুকুর কাটা বন্ধ হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না। যদি বন্ধ না হয় তাহলে তিন ফসলি জমির আরও খুব ক্ষতি হবে। তাই প্রশাসনের স্থায়ীভাবে পুকুর খনন বন্ধ করা প্রয়োজন। এছাড়াও একটি পুকুর কাটার অনুমতি এনে তারা তিন চারটি পুকুর খনন করে। আবার প্রতিবাদ করলে তারা ভয়ভীতি দেখায় হুমকি দেয়।

উপজেলা অতিরিক্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, তাড়াশ মৎস্য চাষে অত্যন্ত সমৃদ্ধ উপজেলা। এখান কার্ফ জাতীয় মাছ বড় করা হয়। এখান থেকেই প্রথম রুই কাতল মাছ বড় করা হয়। এখানকার চাষিরা মাছ চাষ করে বেশ লাভ করতে পারছে। বছর আগে পুকুরের সংখ্যা ছিল তিন হাজার ১০০টি। বর্তমানে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে হাজার ২৮০টি। মাছ চাষ বেশী হবার কারণ মাছ চাষ বেশ লাভজনক।


এখানকার প্রায় ৩৪ হাজার মেট্রিক টন মাছ চাহিদা মিটিয়ে, মাছ বাহিরে যাচ্ছে। এমনকি ময়মনসিংহসহ হাওর সমৃদ্ধ জেলায়ও যাচ্ছে। কারণ তাড়াশের মাছ বেশ স্বাদযুক্ত রং অনন্য। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় চাহিদা রয়েছে। জন্য মাছ বিক্রির জন্য চাষিদের বেগ পেতে হয় না। অন্যান্য চাষের সাথে তুলনা করলে মাছ চাষ খুব লাভজনক। কিন্তু পরিবেশ টেকসই উন্নয়নের দিকে খেয়াল রেখে কৃষকদের তিন ফসলি জমিতে পুকুর কাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলিমিয়া জান্নাত প্রতি বছর আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে কথা স্বীকার করে বলেন, কৃষি বিভাগের এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কীভাবে অল্প আবাদি জমিতে অধিক ফসল ফলানো যায়। প্রতি বছর রাস্তা-ঘাট, ঘড়-বাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা, ইটভাটা পুকুর কাটায় এই আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভালো জমিতে বিশেষ করে তিন ফসলি দুই ফসলি জমিতে কেউ ইট ভাটা পুকুর খনন করতে না পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি। কিছুটা কমলেও যাতে ভালো জমিতে উচ্চ ফলনশীল উন্নত জাত, রোগ প্রতিরোধক জাতগুলোর ব্যবহার কীভাবে করা যায় কৃষি বিভাগ সে ব্যাপারে কৃষকের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছরে উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর আবাদি জমির পরিমাণ কমে গেছে। কৃষি বিভাগ চায় আর যাতে আবাদি জমি না কমে। কিছুটা কমলেও যাতে অল্প জমিতে বেশি বেশি ফসল ফলানো যায় সে ব্যাপারে কৃষকদের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাবে কৃষি বিভাগ।

আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর