সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের
তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে রোপণ করা সরকারি গাছ কেটে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ
দুর্বৃত্তরা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছেন! সাধারণত গভীর রাতে মেশিন
ব্যবহার করে কয়েক মিনিটের মধ্যে গাছ কেটে পরিবহনের উপযোগী করা হয়। পরে মিনি ট্রাক কিংবা
ভ্যানে তুলে সেগুলো বিভিন্ন অবৈধ করাতকলে পাঠানো হয়।
গাছ
কাটা নিয়ে বন বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও বরেন্দ্র বহুমুখী
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর খেলা খেলছে। এ কারণে থানায়
কোনো অভিযোগ হচ্ছে না তাই আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে না। এতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গাছ কাটা চক্রটি। বন বিভাগ বলছে,
গ্রামীণ সড়কের পাশের গাছের মালিকানা এলজিইডির। অন্যদিকে এলজিইডির ভাষ্য, গাছগুলোর মালিকানা
বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের।
সরকারি
দুই দপ্তরের মধ্যে মালিকানা অস্বীকারের নাটকে গাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে নিমিষে। বিস্ময়কর
বিষয় হলো, কেটে নেওয়া গাছের বিষয়ে এ পর্যন্ত কোনো দপ্তরের লোকজন থানায় অভিযোগ দায়ের
করেনি। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে প্রায় ১০০ কিলোমিটার
সামাজিক বনায়ন করা হয়েছে। যেখানে বন বিভাগের রোপণ করা প্রায় এক লাখ গাছ আছে। এছাড়া
কিছু সড়কে এলজিইডি এবং বিএমডিএ গাছ রোপণ করেছে। এসব গাছের বয়স পাঁচ থেকে ত্রিশ বছর।
বৃহস্পতিবার
(১৪ আগস্ট) গভীর রাতে তাড়াশ পৌর শহরের ভাদাস ও সেরাজপুর এলাকায় দুই যুগের বেশি সময়
আগে লাগানো বিশাল আকারে গাছ। ভাদাস থেকে ছয়টি শিশু গাছ কেটে নেওয়া হয় আর সেরাজপুর
থেকে কাটা হয়েছে তিনটি মেহগনি গাছ।
স্থানীয়দের
সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছ কাটা চক্রটি রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে সক্রিয় থাকে।
তারা আগে থেকেই গাছ চিহ্নিত করে রাখে। এরপর একসঙ্গে কয়েকজন মিলে মেশিন (চেইনসো) দিয়ে
দ্রুত গাছ কেটে ফেলে। পরে ছোট ট্রাক বা ভ্যানে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয় করাত কলে। দিনের
বেলায় গেলে কেটে নেওয়া গাছের গুঁড়ি শনাক্ত করা যায় না।
পৌর
শহরের ভাদাস এলাকার বাসিন্দা মজিবর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা রাতে গাছ কাটার
কথা শুনি, কিন্তু এই গাছ গুলো কেটে নিয়ে যায় কে বা কারা এটা কেউ বলতে পারে না। প্রতিদিন
দু-চারটি করে গাছ কাটতে কাটতে রাস্তার দুই পাশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।'
উপজেলা
এলজিইডির প্রকৌশলী মোঃ ফজলুল হক বলেন, সড়কের
পাশের অধিকাংশ গাছ বন বিভাগের। কিছু সড়কের পাশে এলজিইডির গাছ রয়েছে। তারা সেগুলোর নিয়মিত
খোঁজ রাখছেন। উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, যে গাছগুলো কাটা হচ্ছে সেগুলো
বন বিভাগের গাছ নয়, সেগুলো এলজিইডি'র গাছ। তবে তারা প্রতিটি সড়কে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন,
উপজেলা
নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান গাছ চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এই বিষয়ে কেউ আমাকে
অবগত করেনি। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশজমিন/আরআর