ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

মুরগির বিষ্ঠা এখন মাছের প্রধান খাদ্য, জনজীবন অতিষ্ঠ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৪:০৪ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জঃ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মাছ পাল‌নে প্রধান খাদ্য ‌হিসা‌বে ব‌্যবহৃত হ‌চ্ছে বিষাক্ত মুরগির বিষ্ঠা বা লিটার। এতে স্বাস্থ‌্য ঝু‌কি‌তে প‌ড়েছে ভোক্তা সাধারণ। প্রচ‌লিত আছে মা‌ছে ভা‌তে বাঙ্গালী। আবার আমিষের প্রধান উৎস মাছ। কিন্তু সেই মাছ কে অ‌নিরাপদ ক‌রে তুল‌ছে কিছু অসাধু পুকুর ব্যবসায়ী। তারা মা‌ছের খাদ‌্য হিসা‌বে ব‌্যবহার কর‌ছে মুরগির বিষ্ঠা বা লিটার। মাছের খাদ্য হিসেবে সাধারণত ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম খাদ্য। এসব খাদ্যই হচ্ছে মাছ চাষের উপযুক্ত।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, এই মুরগির বিষ্ঠা বা লিটার এখন ক‌্যানসা‌রের আকার ধারন কর‌ছে! প্রায় ৫০ ভাগ পুকুরেই মুরগির বিষ্ঠা (লিটার) সরাসরি মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি খামার থেকে পুকুরে নেয়া হ‌চ্ছে ব্যবহার করার জন‌্য। প‌থিম‌ধ্যে রাস্তার ধারে, পুকুরের পাড়ে যত্রতত্র ভা‌বে ফে‌লে রাখায় দূর্গন্ধ ছড়িয়ে জন জীবন অতিষ্ঠ ক‌রে তো‌লে। আবার সরাস‌রি পুকুরে ব‌্যবহার করায় পু‌কু‌রের পানিও দূষিত হচ্ছে। সরেজমিনে জানা যায়, তাড়াশ, খালকুলা, কোহিত মহিষলুটি, দোবিলা, বিনোদপুরসহ প্রায় অধিকাংশ পুকুরেই ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন খামার থে‌কে আনা মুরগির বিষ্ঠা যা স্থানীয়দের কা‌ছে লিটার না‌মে প‌রি‌চিত।

স্থানীয়রা জানান, খামারের মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি পুকুরে মাছের খাবার হিসেবে ফেলা হচ্ছে। এতে খরচ কম হলেও দুর্গন্ধ ছ‌ড়ি‌য়ে চারপাশের পরিবেশ দূষিত কর‌ছে। বাড়ছে রোগ-বালাইয়ের ঝুঁকি। লিটা‌রের গন্ধে শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া মুরগির বিষ্ঠায় থাকা জীবাণু পানিতে মিশে ধ্বংস  করছে জলজ প্রাণীও।

তারা আরও জানান, রাস্তার পাশে এসব পোল্ট্রি বিষ্ঠা ও বর্জ্য ফেলে রাখায় পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হলেও ‌যেন দেখার কেউ নেই! স্কুল পড়ুয়া ছাত্র- ছাত্রী সহ দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ। এই চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় ঝা‌মেলা এড়া‌তে এসব নীরবে সহ্য করে যাচ্ছেন ভুক্তভো‌গীরা।

এ বিষ‌য়ে স্বাস্থ্য বিভাগ থে‌কে জানা যায়, মুরগীর খাবারে বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক ও কেমিক্যাল রয়েছে। মুরগীর মল মাছের শরীরে প্রবেশ করলে সহজে ধ্বংস হয় না। তাই এগুলো মাছের মাধ্যমে পরবর্তীতে মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থা‌কে।

এ বিষ‌য়ে কৃষি বিভাগ থে‌কে জানা যায়, মুরগির বিষ্ঠা প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরি করা যায়। যা প্রায় ৪ মাস মাটিতে পুঁতে রাখ‌তে হয়। এতে ১শ কেজি বিষ্ঠা থেকে প্রায় ৫০ কেজি টিএসপির গুনাগুন সমৃদ্ধ জৈব সার পাওয়া সম্ভব। যা পুকুরে মাছ চাষে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান,  শুনেছি মৎস্যচাষীরা মুরগির বিষ্ঠা (লিটার) ও তৎসংশ্লিষ্ট বর্জ্য পদার্থ ব্যবহার করছে। বিভিন্ন সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠকে আমি নিজে মৎস্যচাষীদের এসব জি‌নিস না ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন ভাবে সচেতন করেছি। তবুও তারা থামছে না। আমি ইউএনও স্যারের  সাথে কথা বলেছি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আকাশজমিন/আরআর

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর