সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 217
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের
তাড়াশে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার বিঘা গোচারণভূমি।মিলছে না সবুজ ঘাস, বিপাকে
পড়েছে খামারিরা। পশু পালন করা হচ্ছে খড়, কচুরি, খৈল, ভুসিসহ প্যাকেটজাত গোখাদ্যে।
উচ্চমূল্যের এসব গোখাদ্য খাওয়ানোয় খরচ পরছে বেশি। সবুজ ঘাস না পাওয়ায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত
পরিমাণ দুধ। এ ছাড়া উঁচু স্থান, বসতবাড়ি বা খামারের ছোট্ট জায়গায় গাদাগাদি করে রাখা
হচ্ছে গবাদিপশু। এতে পশু আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগে। এতে লোকসানের শিকার হচ্ছেন বন্যাকবলিত
গোখামারিরা।
খামারিদের
সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বস্তা খৈল, ভুসি ও প্যাকেটজাত
গোখাদ্যের দাম দুই থেকে চার'শ টাকা বেড়ে গেছে। এতে খরচ বেড়েছে গবাদিপশু প্রতিপালন
ও দুগ্ধ উৎপাদনের। ব্যয় বাড়লেও সবুজ ঘাস না থাকায় কমেছে দুগ্ধ উৎপাদন। একই সঙ্গে ছোট্ট
খামারের অল্প জায়গায় ইটের ওপর গবাদিপশু লালন-পালন করায় দেখা দিচ্ছে খুরা, তড়কা, ম্যাসটাইটিসসহ
ভাইরাসজনিত নানা রোগ। এতে ব্যাপক লোকসানের শিকার হচ্ছেন গোখামারিরা। সগুনা ইউনিয়নের
কুন্দইল গ্রামের খামারি আইয়ুব আলী বলেন, এখন গরু বিক্রি করে গোখাদ্যের দামই উঠছে না।
গরু লালন-পালন করে তাঁদের লাভের বদলে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
খামারি
আছের আলী বলেন, ‘গরু বাথানে থাকলে সবুজ ঘাস খাইত, বেশি দুধ হইত। এখন বাথান পানিতে তলিয়ে
গেছে। গরু বাড়িতে রাখা হয়েছে। সবুজ ঘাস না খাওয়ার কারণে দুধ কম হচ্ছে। এছাড়াও গরু
বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’
এ
বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারি
সহায়তা দেওয়ার জন্য বন্যায় গবাদিপশু পালনকারীদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে। খুরা,
তড়কা, ম্যাসটাইটিসসহ নানা রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা দিতে মাঠে কাজ করছেন পশু চিকিৎসকেরা।
তিনি
আরও বলেন, গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি
হাসপাতালের পক্ষ থেকে পশুর সেবা, টিকা ও কৃমিনাশক ব্যবহারের বিষয়ে খামারিদের পরামর্শ
দেওয়া হচ্ছে।
আকাশজমিন/আরআর