চলতি বছরের ৭জুন ভৈরবের জগন্নাথপুরে শিশু নূসরাত হত্যার সাথে জড়িতের অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে ওই শিশু নুসরাতের মা আয়েশা খাতুনকল (২৫) আটক করেন ভৈরব থানা পুলিশ। হত্যার মামলার প্রধান আসামি আমলগীর পালিয়ে থাকায় ঘটনার তিনমাস পর তাকে গ্রেফতার করে র্যাব।
র্যাব জানান, বিগত ৫ বছর আগে ধোবাউড়া থানার চন্দ্রগুনা গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়ার মেয়ে আয়েশা খাতুনের সাথে নরসিংদী বেলাব থানার নিলক্ষীয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ওমর ফারুকের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর দুই বছরের মাথায় আলমগীরের জন্য সংসারে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। তাদের সংসারে আলিফ নামে ৩বছরে একটি ছেলে ও নূসরাত নামে দেড় বছরের কন্যা রয়েছে।
শিশু নূসরাতের বাবা ওমর ফারুক পাদুক শ্রমিকের কাজ করতো। সেই সুবাদে দুই বছর আগে ওমর ফারুক ভৈরব শহরের জগন্নাথপুরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো।
গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত আসামি আলমগীরও পাদুকা শ্রমিকের কাজ করতো। সেই সুবাদে ওমর ফারুকের পরিবারের সাথে আলমগীরের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রধরে আয়েশা খাতুনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে তিন বছরের ছেলে আলিফকে স্বামীর বাড়িতে রেখে নূসরাতকে নিয়ে পরকীয়া প্রেমিক আলমগীরকে নিয়ে শহরের লক্ষ্মীপুরে এসে ওই গ্রামের শাহীন কবীর নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। ৭ জুন সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মা আয়েশা বেগমের চিৎকার চেচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা এসে দেখতে পান শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির অস্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ায় মা আয়েশা খাতুনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এঘটনায় পরদিন ৮জুন নিহত শিশু নূসরাতের দাদা আবুল কালাম বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে ভৈরব থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সহকারি পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সের্নীয়াবাত বলেন, এঘটনায় র্যাব তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলার প্রধান আসামি আলমগীকে ভৈরবের টানকৃষ্ণনগর এলাকায় মোবাইলে লুডু খেলার সময় আলমগীরকে গ্রেফতার করি। আজ শুক্রবার সকালে ওই আসামিকে ভৈরব থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ভৈরব থানা পুলিশ তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
আাকশজমিন/আরআর