আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপাল
বর্তমানে বড় ধরনের রাজনৈতিক
ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ ও সরকারের দুর্নীতির
বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির
রাজধানী কাঠমান্ডু। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব
দিচ্ছে নতুন প্রজন্ম— জেনারেশন
জি (Gen Z)। মূলত অনলাইনে
শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ
আন্দোলন খুব অল্প সময়ের
মধ্যেই রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তা
ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়।
❝ সরকারের জবাবদিহিতার অভাব, দুর্নীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদেই মূলত রাস্তায় নেমেছে তরুণরা ❞ সোমবার সকাল থেকেই হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানী কাঠমান্ডুর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হলেও বিক্ষোভকারীরা সব বাধা উপেক্ষা করে রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভবন—পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়েন।
🔥 সংঘর্ষের চিত্রঃ
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ
করতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ছোড়ে, টিয়ার
গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং জলকামান
ব্যবহার করে। তবে এসব
পদক্ষেপও বিক্ষোভকারীদের থামাতে ব্যর্থ হয়।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীতে কারফিউ জারি করেছে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
👥 আন্দোলনের পেছনে
কারা?
এই
আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি Gen Z—যারা ডিজিটাল মিডিয়ার
মাধ্যমে সংগঠিত হচ্ছে, সচেতন এবং সোচ্চার। তাদের
দাবি:
মতপ্রকাশের
স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
দুর্নীতির
বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ
প্রশাসনের
জবাবদিহিতা
নেপাল
সরকার সাম্প্রতিক সময়ে TikTok, Facebook,
Twitter ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা দেয়।
সরকারের মতে, এসব প্ল্যাটফর্মে
"গুজব ও রাষ্ট্রবিরোধী" তথ্য ছড়ানো
হচ্ছে। কিন্তু তরুণ সমাজ এই
পদক্ষেপকে অভিব্যক্তির স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে দেখছে।
🛑 আন্তর্জাতিক মহলের
দৃষ্টি আকর্ষণ
বিক্ষোভের
ভয়াবহতা ও সরকারের প্রতিক্রিয়ায়
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সংবিধান ও
মানবাধিকারের সীমালঙ্ঘন না করতে নেপাল
সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে।
আকাশজমিন/আরআর