সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 151
রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ ও বগুড়াবাসীর বহু প্রতীক্ষিত ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অনুমোদনের দীর্ঘ ৭ বছরে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ১ শতাংশেরও কম।
শুরুতে ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা বাতিল হয়ে গেছে। বর্তমানে সরকার বিকল্প অর্থায়নের খোঁজ করছে। রেলওয়ে পরিকল্পনা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। ডাবল লাইন হলে ট্রেন চলাচল বাড়বে, ভাড়া কমবে এবং সময় সাশ্রয় হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের দূরত্ব কমবে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এবং সময় বাঁচবে প্রায় চার ঘণ্টা। বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে মাত্র ৫ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। এ পথে অর্ধশতাধিক ট্রেন চালানো যাবে, যা সরাসরি উপকৃত করবে উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার মানুষ, কৃষি ও অর্থনীতিকে।
চলতি বছরের জুনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, ডাবল লাইন নির্মাণ হলে প্রকল্প ব্যয় কমপক্ষে ২৫ শতাংশ কমবে এবং এটি দেশের সবচেয়ে লাভজনক রুটে পরিণত হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি শুরু থেকেই ডাবল লাইন করার দাবি থাকলেও রাজনৈতিক চাপে ডুয়েলগেজ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু ভারতীয় অর্থায়নের জটিলতায় প্রকল্পটি আটকে যায়। এলওসির প্রতিশ্রুত অর্থও প্রায় ৬ বছর ধরে পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)সহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিকল্প অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে। রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী মূল লাইনের দৈর্ঘ্য হবে ৯৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং লুপ ও ইয়ার্ড হবে ৩৭ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার। ২টি মেজর ব্রিজ, ২৫টি মাইনর ব্রিজ, ৯১টি বক্স কালভার্ট, ১টি রেল ফ্লাইওভার, ১টি আন্ডারপাস এবং ১০৬টি লেভেল ক্রসিং গেট নির্মিত হবে। এছাড়া নতুন করে ৮টি স্টেশন এবং ১১টি স্টেশনে আধুনিক সিগন্যালিং সিস্টেম বসানো হবে।
রেলওয়ে অপারেশন দপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষ কম ভাড়া ও স্বল্প সময়ে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। এটি ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তুলবে।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, “এটি রেলের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্প। জমি অধিগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অর্থায়ন নিশ্চিত হলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।” রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) নাজমুল ইসলাম বলেন, “রেলের আয় বাড়াতে হলে অবশ্যই ডাবল লাইন নির্মাণ করতে হবে। এর বিকল্প নেই।”
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বিকল্প অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গোটা উত্তরবঙ্গের চিত্র পাল্টে যাবে।”
আকাশজমিন/আরআর