সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 307
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর শহরের উলিপুর দিঘী এখন অতিথি পাখির নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। হাজারো পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম, ঐতিহ্যবাহী এ দিঘীর পাড়ে পাখির জলকেলি আর নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন পাখিপ্রেমীরা।
জনা যায়, তাড়াশ পৌর শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে উলিপুর এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী উলিপুর দিঘী। ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় দুই একরের দিঘীতে এখন অতিথি পাখির অভয়ারণ্য। চারপাশে গাছেঘেরা দিঘীর জলে অতিথি পাখির আগমন দিঘীর সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করেছে। দিঘীজুড়ে হাজার হাজার পাখির মিলন মেলা। প্রতিবছরের মতো এবারো এ দিঘীতে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। প্রতিদিন ভোর রাতে ঝাঁক বেঁধে এসব পাখি দিঘীতে নামে। আর সন্ধ্যা নামলে দেখা যায় নান্দনিক কসরতে ডানা মেলে আকাশে ওড়াউড়ি করছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দ ও জলকেলিতে পুরো এলাকা এখন মুখরিত। দিঘী পাড়ের বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙ্গে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে।
স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগেই মিলে মিশে এসব পাখিদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন। পাখির বিশ্রামে বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে গড়ে তুলেছেন অভয়াশ্রম। মাঝে মাঝে দেওয়া হচ্ছে খাবারও। প্রায় এক যুগ ধরে পাখির আনাগোনা এখানে। তবে এবার পাখির সংখ্যা অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর দলবেঁধে অতিথি পাখি দিঘীতে আসে। পাখিগুলো সারাদিন মাঠের মধ্যে থাকে। মাঝে মধ্যে পাখিদের জন্য সাধ্য অনুযায়ী কিছু খাবারও ছিটিয়ে দেওয়া হয়। তাদের বসার জন্য (বিশ্রামের) শতাধিক বাঁশ কেটে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের সবাই নিজেদের মতো করে পাখিগুলো লালন করছেন।
এদিকে পাখিদের জলকেলি, খুনসুটি আর কিচিরমিচির শব্দ উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিঘীর পাড়ে ছুটে আসছেন পাখিপ্রেমীরা। পাখি ও ভ্রমণ পিপাসুদের নিরাপত্তায় এবং পর্যটনশিল্প বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে দিঘীটি।
দিঘীতে পাখি দেখতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, এমন অসংখ্য পাখি একসঙ্গে আর দেখা হয়নি কখনো। মন খারাপ হলেই দিঘীর পাড়ে ছুটে আসেন তাদের মতো অনেকে। একটু বসে পাখি দেখে মনে শান্তি নিয়ে ফিরেন তারা। দিঘীটির পাশে তেমন বসার স্থান না থাকায় অনেকে দাঁড়িয়ে নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করেন।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, উলিপুর দিঘীসহ একাধিক স্থানে অতিথি পাখির অভয়াশ্রমের খবর শুনেছেন তিনি। তবে এসব স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পর্যটন স্পট করতে কিছুটা বাধা হলেও পাখিদের নিরাপত্তাসহ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরাআর