দিমিত্রিয়েভের মতে, এই বিশাল প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান দ্য বোরিং কোম্পানি অংশ নিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ মাস্ককে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, “চলুন একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি—আমেরিকা ও আফ্রো-ইউরেশিয়াকে যুক্ত করুক ‘পুতিন-ট্রাম্প টানেল’।”
শুক্রবার হোয়াইট হাউজে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ প্রস্তাবকে “বেশ আকর্ষণীয়” বলে মন্তব্য করেন। তবে জেলেনস্কি এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমি এই ধারণা নিয়ে খুশি নই।”
রাশিয়ার ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান নির্বাহী দিমিত্রিয়েভ গত মাসেও জানিয়েছিলেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একত্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে অংশ নিতে পারে। তাঁর ভাষায়, “আমরা যৌথভাবে আর্কটিক জ্বালানি প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ খুঁজছি।”
বর্তমানে বরফ গলতে শুরু করায় আর্কটিক অঞ্চলে খনিজ আহরণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ। দিমিত্রিয়েভ স্মরণ করিয়ে দেন, ঠান্ডা যুদ্ধের সময় ‘কেনেডি-ক্রুশ্চেভ ওয়ার্ল্ড পিস ব্রিজ’ নামে অনুরূপ সংযোগ সেতুর প্রস্তাব উঠেছিল। তিনি তখনকার নকশার একটি চিত্রও প্রকাশ করেছেন, যেখানে নতুন টানেলের সম্ভাব্য পথ দেখানো হয়েছে।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী বেরিং প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানের দূরত্ব মাত্র ৮২ কিলোমিটার। প্রণালির মাঝখানে দুটি ছোট দ্বীপ—একটি রাশিয়ার, অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের—যাদের দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার। দিমিত্রিয়েভ বলেন, “মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহাদেশগুলোকে সংযুক্ত করার সময় এসেছে।”
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপ হয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে বৈঠকে বসবেন। তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ইলন মাস্ক দিমিত্রিয়েভের প্রস্তাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।
সূত্র: আল জাজিরা