ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু, গাছিরা ব্যস্ত


সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গাছিরা খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন

  • আপলোড সময় : রবিবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৭:৩১ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গাছিরা খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতের আগমনী বার্তা শুরু হওয়ায় দিনে খরতাপ ও রাতের শেষ ভাগে শীতের ছোঁয়া অনুভূত হচ্ছে। ভোরের কুয়াশা ও শিশিরের বিন্দু লতা-পাতা, ঘাস ও আমন ধানের ডগায় পড়ছে, যা গ্রামীণ জনপদে শীতের আগমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেহেতু খেজুরের রস সংগ্রহ সাধারণত শীতকালে হয়, তাই গাছিরা গাছের ডাল ও শাখা-প্রশাখা কেটে পরিষ্কার করছেন।


উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছিরা জানান, খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে প্রথমে গাছের মাথা পরিষ্কার করে সাদা অংশ কেটে রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। এরপর সাদা অংশ আবারও কেটে নলি লাগিয়ে ছোট-বড় বাসন বেঁধে রস সংগ্রহ করা হয়। এই রস কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করতেও ব্যবহার করা হয়।


তাড়াশ উপজেলা বারুহাস ইউনিয়নের রানীদিঘী গ্রামের গাছি ইয়া‌ছিন বলেন, “সাধারণত কার্তিক মাসে রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করতে হয়। তবে এবার শীতের আগমনের কারণে আগেই গাছ প্রস্তুত করছি। একটি গাছ প্রস্তুত করতে প্রায় ১ দিনের মতো সময় লাগে। রস সংগ্রহের জন্য সাধারণত মাটির হাড়ি ব্যবহার করা হয়, যার ধারণ ক্ষমতা ৬ থেকে ১০ লিটার। হাড়ির ভিতরে চুন প্রলেপ দিলে রস ভালো থাকে, তবে কাঁচা খাওয়ার জন্য চুন দেওয়া হয় না। একটি গাছ থেকে ২ থেকে ৩ মাসের মতো রস পাওয়া যায় এবং ১ গাছ থেকে ১ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত রস সংগ্রহ করা সম্ভব। প্রথম ৩ দিন রস সংগ্রহ করা হয়, পরবর্তী ৩ দিন গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয় না। আমরা এটিকে ‘পালি দেওয়া’ বলি।”


তিনি আরও জানান, বিকেল ৩টার পর হাড়ি বেঁধে গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু হয় এবং পরের দিন ভোররাত ৫-৬টা থেকে কাজ শুরু করা হয়। রস সংগ্রহ শেষে তা বড় পাত্রে ঢেলে গুড় তৈরি করা হয়। এক কেজি গুড় বানাতে ১২ থেকে ১৫ কেজি রস লাগে। গাছি বলেন, “আমার নিজের গাছ নেই, তাই অন্যদের গাছ থেকে প্রতি গাছে ২-৩ কেজি গুড় দিতে হয়। বয়স বাড়ায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, এবং গাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে। ভবিষ্যতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম রস সংগ্রহ করতে পারবে কি না, সন্দেহ আছে।”


খেজুর রস সংগ্রহকারী গাছি মোটা‌লেব, শরিফুল, আজমল ও জাহিদুল জানান, এখন বেশিরভাগ গাছ অন্যের, তাই তাদের অনুমতি নিয়ে রস সংগ্রহ করতে হয়। প্রতিটি গাছের জন্য গাছের মালিককে ৭ কেজি লাল গুড় বা ১ হাজার টাকা দিতে হয়। গাছ প্রস্তুত প্রায় শেষ, এবার অপেক্ষা রস সংগ্রহের।


তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, “খেজুর গাছের জন্য বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। কৃষি বিভাগ কৃষকদের বাড়ির আশপাশ, জমির আইল, পুকুরপাড় এবং সড়কের ধারে খেজুর গাছ লাগানোর পরামর্শ দেয়। পরিত্যক্ত জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খেজুর বাগান গড়ে তুললে কৃষকেরা লাভবান হবেন।”

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর