বাংলাদেশের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের অভিযোগে বঙ্গোপসাগর থেকে নৌবাহিনী একটি ফিশিং ট্রলারসহ নয়জন ভারতীয় জেলেকে আটক করেছে। আটক ট্রলারটির নাম এফবি এনি। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ট্রলার এবং জেলেদের মোংলার ফেরিঘাটে আনা হয়। পরে নৌবাহিনী জব্দ ট্রলার এবং আটক জেলেদের মোংলা থানায় হস্তান্তর করে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জানান, “ফেয়ারওয়ে বয়া সংলগ্ন এলাকায় টহলরত নৌবাহিনী ‘এফবি এনি’ নামের একটি ভারতীয় ফিশিং ট্রলার আটক করেছে। ট্রলারে নয়জন ভারতীয় জেলে ছিলেন। মুদ্রাসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্রলারসহ আটক জেলেদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হবে।” জেলেদের বাড়ি ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ এলাকায়। তারা এই এলাকার জেলেদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটক ট্রলারটিতে প্রায় দেড় মেট্রিক টন টুনা মাছ পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব মাছ জব্দ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে মোংলা সমুদ্রবন্দরের অদূরে ফেয়ারওয়ে বয়া সংলগ্ন গভীর সাগর থেকে জেলেসহ ট্রলারটি আটক করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এই বছরের অক্টোবর মাসে আরও একবার একই এলাকায় অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের দায়ে ভারতীয় ফিশিং ট্রলার আটক করে নৌবাহিনী। এটি নির্দেশ করে যে, বঙ্গোপসাগরে জলসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা এখনও ঘটছে এবং নৌবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নৌবাহিনী ও মৎস্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, বিদেশি জেলেদের মাছ শিকার রোধ এবং বাংলাদেশের জলসীমা রক্ষা করতে নিয়মিত টহল চলবে। এর মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যে কোনো অনুপ্রবেশ বা অবৈধ মাছ শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।