ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কী সাজা পেতে যাচ্ছেন রাজসাক্ষী মামুন?


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ১১:৩৪ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রায়ের চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ভাগ্য।

রাজসাক্ষী হিসেবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশে সাক্ষ্য দেওয়া চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন রায় ঘোষণার সময় কী শাস্তি পেতে পারেন তা নিয়ে দেশে বড় ধরনের আলোচনা চলছে। মামলার প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী, উভয়পক্ষের যুক্তিকণ্ডনে সাবেক আইজিপি মামুনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে আন্দোলনরত ছাত্র ও জনতার ওপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠী দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডে রাজসাক্ষী মামুনের ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আন্দোলন দমন কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

বিচারিক ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার শুরুর পর মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৯ কার্যদিন ধরে প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের যুক্তি-প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিখণ্ডন শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

রাজসাক্ষী হিসেবে মামুনের ওপর ট্রাইব্যুনালের রায় নির্ভর করছে। প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী উভয়ই তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। মামলার অন্যান্য আসামি—শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল—সর্বোচ্চ সাজা চান। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ক্ষেত্রে রায় ট্রাইব্যুনালের বিচারের ওপর নির্ভর করছে।

বিচারিক ট্রাইব্যুনাল ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে। সাধারণ মানুষও রায় ঘোষণার আগে সতর্কতা অবলম্বন করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজসাক্ষী মামুনের রায় শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত ভবিষ্যত নয়, মামলার বিচারের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রভাবকেও নির্দেশ করবে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত প্রমাণ ও সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে হওয়ায় তার রায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, মামলার রায় ঘোষণার দিনটি দেশে উত্তেজনা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্ব বহন করছে। জনসাধারণ, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক পক্ষ সবাই রায় ঘোষণার ফলাফলের দিকে নজর রাখছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর