ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘বিচার স্বচ্ছ হয়েছে, শেখ হাসিনা খালাস পেলে খুশি হতাম’


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ১১:৩৬ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

পলাতক ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার স্বচ্ছ ও ভালোভাবে হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনা খালাস পেলে আমি সবচেয়ে খুশি হতাম। সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আমার মক্কেলের খালাস চাই। এটা স্বাভাবিক, প্রত্যেকেই চাইবে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে আইনজীবী বলেন, আমি চেষ্টা করিনি এবং উনারাও আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। আইনগতভাবে যোগাযোগের বিধানও নেই। তিনি আরও যোগ করেন, আমি সবসময় আশা করি আমার মক্কেল খালাস পাবে। এটি হৃদয় থেকে বলা হচ্ছে। এত মাস ধরে মামলা লড়ার পর যদি খালাস পায়, আমি সবচেয়ে খুশি হব।

আইনজীবী বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাজসাক্ষী আবদুল্লাহ আল মামুন সম্পর্কে তিনি বলেন, উনি আমার মক্কেল নন, তাই এ বিষয়ে আমার বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয়। শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন-বিজিবি এবং সেনাবাহিনী নিয়োজিত। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার তৎপর সদস্যরা দায়িত্বে রয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে দোয়েল চত্ত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

১৩ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলায় ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়েছে। প্রসিকিউশন এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তিখণ্ডন ৯ কার্যদিন ধরে হয়েছে। ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্যের পরে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও মামলার আরেক আসামি কামালের সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়েছে। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের রায় রাজসাক্ষী হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী বিশ্বাস করেন, শেখ হাসিনা ও কামাল খালাস পাবেন।

মামলায় পাঁচটি মানবতাবিরোধী অভিযোগ আনা হয়: উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণ ৪,০০৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা ২,৭২৪ পৃষ্ঠা। মোট ৮৪ জন সাক্ষী করা হয়েছে। মামলার প্রতিবেদন ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেওয়া হয়।

 

আকাশজমিন / আরআর 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর