ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

৬৪ বছরের পুরোনো ভবনে চলছে ফায়ার সার্ভিস!


৬৪ বছরের পুরোনো ভবনে চলছে ফায়ার সার্ভিস

  • আপলোড সময় : রবিবার ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৮:৫৮ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কার্যক্রম চলছে ৬৪ বছর আগে নির্মিত একতলা পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। ১৯৬১ সালে নির্মিত এই ভবনটি বর্তমানে ভয়াবহ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া, ভিমের রড বেরিয়ে আসা, বেঁকে যাওয়া জানালার গ্রিল এবং ভাঙা দরজার চৌকাঠ দেখে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমন ঝুঁকি নিয়েই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ইলিয়াড ব্রিজসংলগ্ন স্থানে নির্মিত ভবনটির নিচতলায় পানি বহনকারী গাড়ির গ্যারেজ ও অফিস কক্ষ রয়েছে। ছাদে পানির ট্যাংক। বহু বছর আগের নির্মাণের কারণে ভবনের প্রায় প্রতিটি অংশেই ক্ষয়ক্ষতি ধরা পড়েছে। ব্যারাক, গ্যারেজ ভবন, অফিস কক্ষ— সব জায়গাতেই দেওয়াল ও পিলারে ফাটল, কার্নিশে খসে পড়া অংশ এবং ছাদে ফুটো দেখা গেছে। পলেস্তারা খসে বহু স্থানে ভিমের রড পর্যন্ত বেরিয়ে আছে, যা ভবনটির ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, জেলার অন্যান্য উপজেলায় নতুন ভবন থাকলেও সদর এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির মতো পুরোনো ভবনেই সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। অথচ একটি জেলা শহরের জন্য প্রয়োজন আধুনিক ও নিরাপদ প্রথম শ্রেণির ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। তারা আরও বলেন, এই ভবনটি এখন সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অফিস কক্ষ এবং ব্যারাকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ এবং বারান্দা দিয়ে পানি পড়ে, ব্যারাকের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে জঞ্জাল তৈরি হয়। আতঙ্কের মধ্যেই তাদের বাস, খাবার, বিশ্রাম— সবকিছু করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ভবনটি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কর্মীদের মতে, মাত্র ৫ বা ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ভবনটি সঙ্গে সঙ্গে ধসে পড়তে পারে। এর ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
ফায়ার ফাইটার আব্দুর সবুর তালুকদার বলেন, “ব্যারাকে থাকার মতো পরিবেশ নেই। ছাদ খসে পড়ে, দেওয়ালে পানি চুইয়ে পড়ে। সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। দ্রুত নতুন ভবন অত্যন্ত জরুরি।”

স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, “ভবনটি কোনো মতে জোড়াতালি দিয়ে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, “ঝুঁকি নিয়েই আমাদের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গণপূর্ত বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং প্রক্রিয়া চলমান।”

ভবনটি পরিদর্শন করেছে সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগও। নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমাদুল হাসান জানান, “পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে— ভবনের নানা স্থানে ভয়াবহ ফাটল। পিলার, দেওয়াল, কার্নিশ— কোথাওই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পাঠানো হবে।”

স্থানীয়দের মতে, সিরাজগঞ্জের মতো নদী-প্রধান এলাকায় অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, নদী দুর্ঘটনা ও শিল্পাঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনই সবচেয়ে বেশি সাড়া দেয়। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর ধরে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। তারা মনে করেন, জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য অবিলম্বে আধুনিক ভবন নির্মাণ জরুরি।

কর্মরতদের দাবি, শুধু ভবন নয়, সরঞ্জাম, ব্যারাক, প্রশিক্ষণ সুবিধা— সবকিছুই উন্নত ও আধুনিক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিল্পকারখানা সম্প্রসারণের কারণে উদ্ধার কার্যক্রমের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পুরোনো ভবনে কাজ করা শুধু অমানবিক নয়, বিপজ্জনকও।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেন, ভবনের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা আশাবাদী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং সিরাজগঞ্জবাসী একটি আধুনিক ও নিরাপদ স্টেশন পাবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর