ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইসিটি ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ক্ষোভ

শেখ হাসিনার মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন জেডআই খান পান্না


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৭:১৭ পিএম

বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে সংঘটিত গুম–নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ফেসবুক লাইভে জেডআই খান পান্না বলেন, সম্প্রতি তিনি আইসিটিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ডিফেন্ড করার জন্য আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ চাইেছিলেন। প্রথমে তিনি জানান, তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত। কিন্তু আদালত জানায়, পলাতক আসামির পক্ষে তিনি সরাসরি আইনজীবী হতে পারবেন না। পরে প্রসিকিউশন উল্লেখ করে যে ‘স্টেট ডিফেন্স’ হিসেবে তিনি অংশ নিতে পারেন। তিনি বলেন, “যেকোনও উপায়ে আমি তাকে ডিফেন্ড করতে চাইছিলাম। কিন্তু এখন দেখলাম, শেখ হাসিনারও এই আদালতের প্রতি আস্থা নেই। আর আমার বন্ধু, সহযোদ্ধা, সহকর্মী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত যে আদালত অবমাননার মামলা করেছে—তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। তাকে (ফজলুর রহমানকে) আমি ডিফেন্ড করবো।”

তিনি আরও বলেন, “যে আদালতের প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যার আস্থা নেই, সে আদালতে আমি তাকে ডিফেন্ড করতে পারি না, উচিত না, অনৈতিক। ফরমালি আমি এপয়েন্টমেন্ট পাইনি। পেলে ট্রাইব্যুনালকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবো। আর না পেলে এখান থেকেই জানিয়ে দিলাম—আমি তাকে ডিফেন্ড করার জন্য আদালতে দাঁড়াবো না।”

বিচার বিভাগের প্রতি তার নিজস্ব আস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা জনগণের ওপরই ছেড়ে দিলাম। জনগণ দেখুক কতখানি আস্থা রাখার মতো বিচারব্যবস্থা আছে। গত ১৬ বছর ধরে আন্তর্জাতিকভাবে যারা আওয়ামী শাসনের এবং বঙ্গবন্ধুর কন্যার বিরোধিতা করেছে, সেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অনেক সংগঠনই এ বিষয়ে মতামত দিয়েছে। আদালতে যদি আমি তাকে নির্বিঘ্নে ডিফেন্ড করতে না পারি, তাহলে আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত হয়ে কোনও লাভ নেই।”

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের প্রতি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “যাই হোক, আমি তাকে ডিফেন্ড করবো। সে আমার চেয়েও বেশি কঠিন, অনমনীয় মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে সে কখনও আপোষ করেনি। সে অন্য দলে থাকলেও আমি তার পাশে দাঁড়াবো।”

নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, “আমি মানুষ, ভুল হতে পারে। কিন্তু আমি বিক্রয়যোগ্য নই। সিদ্ধান্ত যা সঠিক মনে করি, সেটাই করি। অনেকেই গালি দিয়েছেন—রাগ করিনি। তবে গালাগালির বদলে ভুল ধরিয়ে দিলে ভালো হতো।”

রাজউকপ্রদত্ত জমি সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টেলিভিশনে দেখলাম সাইমা ওয়াজেদ পুতুল এবং সজীব ওয়াজেদ জয়কে সাজা দেওয়া হয়েছে এমন জমির জন্য, যার জন্য তারা আবেদনও করেনি। কীভাবে এটা হয় বুঝি না। আমি দুদকের মামলায় আপিল করার চেষ্টা করবো। অনুমতি না পেলেও যে করবে তার পাশে থাকবো। লড়াই ছাড়বো না।”

শেষে তিনি বলেন, “এই দেশ পাকিস্তানিদের হাতে যাবে না, মৌলবাদীদের হাতে যাবে না, স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে থাকবে না।”


আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর