ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সামলাতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী আরব উপসাগরে কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা তাহসিফের সঙ্গে বারে দেখা যাওয়া জেরিকা দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২৯ ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান অর্জন হলো না কেন, দায় কার? হাম ও হামের উপসর্গে দেশে মোট মৃত্যু বেড়ে ১২৫৪ প্রধানমন্ত্রীর নজরে টাঙ্গাইলের বাবুপুরের মাঠ: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

গুম-খুন মামলায় সেনাবাহিনী নয়: চিফ প্রসিকিউটর


গুম-খুন মামলায় সেনাবাহিনী নয়: চিফ প্রসিকিউটর

  • আপলোড সময় : বুধবার ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:০৪ পিএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয় এই বিচার। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে র‌্যাবের টিএফআই সেলে বিরোধী মতাদর্শের লোকদের গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় যে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে, তা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়।

৩ ডিসেম্বর দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে গুম মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির পর তিনি এই মন্তব্য করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই বিচারকে সংযুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা তারা শুনানির সময় লক্ষ্য করেছেন।

তিনি আরও জানান, “র‌্যাবের যেসব কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে, তাদের ভার্চুয়াল শুনানির সুযোগ দেয়ার আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছে। এই বিচার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, কারণ আসামিরা তখন র‌্যাবে কর্মরত ছিলেন এবং সামরিক শৃঙ্খলার বাইরে থেকে অপরাধ করেছেন।”

আদালত জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী সব নাগরিক সমান এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুরুতর। তাদের সবাইকে সমান সুবিধা দেয়া হবে, তবে কেউ সাজাপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ বলে গণ্য হবেন। তবে আসামিরা অন্য আসামিদের মতো অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন না।

আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে অনেকে পলাতক রয়েছেন।

সেনানিবাস থেকে ১০ জন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তাদের মধ্যে র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কেএম আজাদ প্রমুখ রয়েছেন। পলাতক আসামিদের জন্য সাতদিনের মধ্যে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি গুরুতর বিষয়। ৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর থেকে এই মামলা নিয়ে নানা শোনানি ও তদন্ত চলছে। গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “এই বিচার দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, যারা স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে নয়। আসামিরা সামরিক শৃঙ্খলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে র‌্যাবে কর্মরত অবস্থায় এই অপরাধ করেছেন।”

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর