আমতলীতে ধান কাটতে বাঁধা দেয়ায় চার নারীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম। মামলা দায়ের। তিনজন গ্রেপ্তার।
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
ধান কাটতে বাঁধা দেয়ায় চার নারীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করেছেন। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে রিপন হাওলাদারকে প্রধান আসামী করে ২০ জনের নামে আমতলী থানায় মামলা করেছে। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার বিকেলে আমতলী উপজেলার দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামে।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের মন্নাফ হাওলাদার ও জামাল গাজীর মধ্যে ১৫ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত ১১ নভেম্বর ওই জমির ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই পক্ষ মামলা করেন। জামাল গাজীর পক্ষের একটি মামলায় গত ২৪ নভেম্বর থেকে মন্নাফ হাওলাদার ও তার ১১ জন স্বজন জেল হাজতে রয়েছে। ওই সুযোগে জামাল গাজীর ভাই হলদিয়া ইউনিয়ন যুবদল সদস্য সচিব আরিফ গাজীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী শুক্রবার বিকেলে ওই জমির ধান কাটতে গেলে মন্নাফ হাওলাদার বাড়ীর নারীরা বাঁধা দেয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফ গাজী লোকজন কদভানু (৪৫), শেফালী (৪০), নুর নাহার (৩৫), মমতাজ (৭০) ও সাদ্দাম হোসেনকে (৩০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে এ্যালোপাথারী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ৯৯৯ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের সহায়তায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ ঘটনার পরপর আরিফ গাজীর লোকজন আহত কদভানুর ঘরে আগুন দেয় এমন অভিযোগ শহীদুল ইসলামের। শহীদুলের আরো অভিযোগ আহতদের বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আসা মাত্রই আরিফ গাজীর লোকজন হাসপাতালে চিকিৎসায় তাদের বাঁধা দেয়। এ সময় তারা শহীদুল নামের আরো একজনকে মারধর করে।
গুরুতর আহতদের আমতলী হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে রিপন হাওলাদারকে প্রধান আসামী করে ২০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জাকারিয়া, সগির ও লিপি বেগম নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার বিকেলে পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করেছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মন্নাফ হাওলাদারের জামাতা শহীদুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন যুবদল সদস্য সচিব আরিফ গাজী ও তার লোকজন আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি তাদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, চার নারীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় ২০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর