ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

ডিজির সঙ্গে তর্ক: শোকজের জবাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন চিকিৎসক


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:১০ পিএম

ময়মনসিংহ ব্যুরো 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আবু জাফরের সঙ্গে তর্কে জড়ানো চিকিৎসক ধনদেব চন্দ্র বর্মণ অবশেষে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। শোকজ নোটিশ পাওয়ার পর রোববার বেলা ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালের পরিচালকের কাছে লিখিত জবাব জমা দেন। তিনি জানান, ডিজির সঙ্গে তার আচরণ অনুচিত হয়েছে এবং এজন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

ধনদেব চন্দ্র বর্মণ মুঠোফোনে বলেন, ‘শোকজের চিঠি হাতে পেয়ে আজ বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে জমা দিয়েছি। ডিজি বয়স্ক মানুষ, আমারও বেয়াদবি হয়েছে। শোকজের জবাবে আমি দুঃখ প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছি।’

এ ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সকালে। সেদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে আসেন স্বাস্থ্যের ডিজি মো. আবু জাফর। সেমিনারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শন করেন। সেখানে কক্ষে থাকা একটি টেবিল নিয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। তখন জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জ ধনদেব চন্দ্র বর্মণ ডিজির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌসের স্বাক্ষরে দেওয়া ওই নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। ধনদেব চন্দ্র বর্মণ আজ সেই জবাব জমা দিয়েছেন।

ধনদেব চন্দ্র বর্মণ ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি আবাসিক সার্জন থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। তবে গতকালের ঘটনাটি তার পেশাগত অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তর্কের বিষয়ে গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিজির কাছ থেকে গুরুজনের মতো ব্যবহার আশা করেছিলাম। কিন্তু তিনি এসে কী কী সমস্যা, সেগুলো জানতে না চেয়ে ভেতরে কেন টেবিল, এ নিয়ে কথা বলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বন্ধুরা সব অধ্যাপক হয়ে গেছে। আমার চাকরিজীবন শেষ; কিন্তু আমার হয়নি বিভিন্ন কারণে। এ জন্য আমার চাকরি থেকে সাসপেনশন হলে আমি খুশি হই।’

এদিকে আজ দুপুরে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাইনউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ওই চিকিৎসককে শোকজ করেছি, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। তাঁর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।’ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ধনদেব চন্দ্র বর্মণ সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি থাকলেও তিনি তার লিখিত ব্যাখ্যায় ঘটনার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার পর স্বাস্থ্যসেবা খাতের পেশাজীবীদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করেন, হাসপাতালে পরিদর্শনে আসা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আচরণে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকদের নানান চাপ ও হতাশা থেকেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ধনদেব চন্দ্র বর্মণের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ঘটনায় উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করেছে বলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর