ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সামলাতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী আরব উপসাগরে কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা তাহসিফের সঙ্গে বারে দেখা যাওয়া জেরিকা দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২৯ ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান অর্জন হলো না কেন, দায় কার? হাম ও হামের উপসর্গে দেশে মোট মৃত্যু বেড়ে ১২৫৪ প্রধানমন্ত্রীর নজরে টাঙ্গাইলের বাবুপুরের মাঠ: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

গুমের নির্দেশ দিতেন শেখ হাসিনা: ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:৩১ পিএম

আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এক গুরুতর দাবি তুলেছেন। তিনি জানান, গুমের নির্দেশ সরাসরি দিতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেন তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক। রোববার (৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা আয়নাঘরে সংঘটিত গুম ও নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার অভিযোগ গঠন শুনানিতে এসব বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।

দুপুর ১২টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল শুনানি শুরু করে। অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এই মামলায় তিন সেনা কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন—ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। সকালে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এ মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাবেক সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা—শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।

গত ২৩ নভেম্বর এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করেছে। স্বেচ্ছায় আইনজীবী হিসেবে লড়তে চাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিন ডিসেম্বর তিনি দায়িত্ব প্রত্যাহার করেন। পরে তার স্থলে মো. আমির হোসেনকে নতুন আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

গত ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশন ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পলাতক আসামিদের হাজির করার জন্য সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। মামলার পরবর্তী শুনানিতে তদন্ত ও শুনানি-সংশ্লিষ্ট দলিলগুলো পেশ করা হবে বলে জানানো হয়।

আকাশজমিন / আরআর



এ সম্পর্কিত আরো খবর