হংকংয়ে নতুন আইনপ্রণেতা বাছাইয়ের জন্য রবিবার (৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে আইন পরিষদের (লেজিসলেটিভ কাউন্সিল) নির্বাচন। শহরে প্রায় ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর গভীর শোক ও জনরোষের মধ্যে এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচনকে জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইন পরিষদের সদস্য বাছাইয়ে ভোটারদের উৎসাহিত করতে সরকার ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। সব প্রার্থীকে চীনের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে যাচাই করা হয়েছে। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩১.৯ শতাংশ। ২০২১ সালের নির্বাচনে উপস্থিতি ছিল ৩০ শতাংশ, যা ছিল ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
গত মাসে তাই পো জেলায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৬০ জন নিহত হয়েছে। সাত মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার শহরে নিবন্ধিত ৪.১ মিলিয়ন ভোটারের মধ্যে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন ভোট পড়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর শহরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
২০১৯ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর চীন হংকংয়ের নির্বাচনি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে, যাতে শুধুমাত্র ‘দেশপ্রেমিক’ ব্যক্তিরাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। বেইজিং বলছে, এসব পরিবর্তন স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয়, যদিও সমালোচকেরা গণতন্ত্র দুর্বল হয়েছে বলছেন।
এবারের নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৯০টি আসনের জন্য ১৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ২০টি আসন সরাসরি নির্বাচিত হয়, প্রায় অর্ধেক নির্বাচন কমিটি দ্বারা এবং বাকিগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বার্থগোষ্ঠী দ্বারা বাছাই করা হয়।
সরকার ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। শহরজুড়ে পোস্টার, ফ্রি উপহার, কেনাকাটায় ছাড়, ভোটদাতাদের ধন্যবাদ কার্ড, বিনামূল্যে সুইমিং পুল ও জাদুঘরে প্রবেশ, কার্নিভাল ও টিভি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া কার্টুন মাসকট ও একটি থিম সংও তৈরি করা হয়েছে।
তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ২৬ নভেম্বরের তাই পো অগ্নিকাণ্ড। স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওয়াং ফুক কোর্টে ব্যবহৃত মেশটি অগ্নিরোধী মান পূরণ করেনি। শহরজুড়ে ভবন সংস্কারে ব্যবহৃত অমান্য স্ক্যাফোল্ডিং মেশ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর রাজনৈতিক প্রচার স্থগিত করা হয়েছিল, তবে কয়েক দিন পর সরকার আয়োজিত বিতর্ক ফোরাম পুনরায় শুরু করা হয়েছে। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বলেছেন, লেগকো নির্বাচন পূর্বনির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। নতুন আইনপ্রণেতারা দ্রুত পুনর্গঠন ও সংস্কার এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।
আকাশজমিন
/ আরআর