কুটির, ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প—সিএমএসএমই খাতকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হলে অটোমেশন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং আনুষ্ঠানিক অর্থায়নে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে এই খাত ঋণ ঘাটতি, জামানতের অভাব, সম্পদের মালিকানায় সীমাবদ্ধতা এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের সংকটে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এজন্য সিএমএসএমই খাতে প্রায় ২৮০ কোটি ডলারের ঋণ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের ৬৫ শতাংশ এখনও অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের ব্যবসা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কঠিন করে তুলছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ১২তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘স্বয়ংক্রিয় উদ্ভাবনের মাধ্যমে সিএমএসএমই-এর অগ্রযাত্রাকে রূপদান’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. মুসফিকুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ জিয়াউল হক।
মূল প্রবন্ধে তিনি জানান, সিএমএসএমই খাতে জামানত ও সম্পদের মালিকানার অভাব একটি বড় অন্তরায়। অধিকাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নিজেদের নামে পর্যাপ্ত সম্পদ বা গ্যারান্টি দেখাতে না পারায় ঋণপ্রাপ্তিতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হন। পাশাপাশি বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। অনলাইনে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখা, ডিজিটাল মার্কেটিং বা ই-কমার্সে অংশ নেওয়ার সক্ষমতাও বেশ সীমিত। প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও আর্থিক সাক্ষরতার ঘাটতি এ খাতকে আরও দুর্বল করে রাখছে।
তিনি বলেন, অটোমেশন ছাড়া সিএমএসএমই খাতের সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, খরচ কমাতে এবং বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিভিত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রযুক্তি নির্ভর ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের পরিধি বাড়াতে হবে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, সিএমএসএমই খাত দেশের অর্থনীতির ভিত্তি। তাই এই খাতকে শক্তিশালী করতে হলে ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার, ই-কমার্স দক্ষতা, ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন ব্র্যান্ডিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। নারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজার সংযোগও জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সিএমএসএমই খাতকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হলে একটি সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মধ্যে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, উদ্ভাবনভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল তৈরি, সরকার–বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তি স্টার্টআপের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো জরুরি।
আকাশজমিন / আরআর