ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী মামলায় বিদেশি আইনজীবী চান সালমান-আনিসুল


  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৮:৩৫ পিএম

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আইনি লড়াই শক্তিশালী করতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে কারফিউ দিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যার উসকানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তারা এই আবেদন জানান।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তাদের পক্ষে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

এদিন মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য সময় চান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। আদালত আগামী ১৭ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। এরপর সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের পক্ষে শুনানি করেন মনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানির শুরুতেই তিনি জানান, এই মামলায় বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য ট্রাইব্যুনালের অনুমতি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দিতে হলে প্রথমে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিতে হয়। পরে বার কাউন্সিলে আবেদন জমা দিতে হয়। অনুমতি পেলে আইনজীবী নিয়োগে আর কোনো বাধা থাকে না। কিন্তু প্রসিকিউশন এ আবেদনটির বিরোধিতা করেছে। আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে আইন পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে, ৪ ডিসেম্বর এ মামলায় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ আমলে নেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফোনালাপ করেন আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান। সেই ফোনালাপে তারা কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দিতে হবে’ বলে মন্তব্য করেন। তাদের এই বক্তব্যের পর ২০২৪ সালের ১৯ জুলাইসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়, যাতে বহু মানুষ নিহত হন। এসব হত্যাকাণ্ডে তাদের বক্তব্য উসকানির ভূমিকা রাখে এবং তারা বিভিন্নভাবে সহায়তাও করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পর গত বছরের ১৩ আগস্ট পালানোর সময় গ্রেপ্তার হন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। পরে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং তখন থেকেই তারা কারাগারে রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলাটি এখন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ—উভয় দিকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

এদিকে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদনকে কেন্দ্র করে আদালতের ভেতরে তীব্র আইনি বিতর্ক তৈরি হয়। প্রসিকিউশন দাবি করে, দেশের আইনি কাঠামোর মধ্যেই মামলাটি পরিচালনা করা সম্ভব এবং বিদেশি আইনজীবীর প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসামিপক্ষের দাবি, মামলার গুরুত্ব ও জটিলতা বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞ আইনবিদ প্রয়োজন। সব মিলিয়ে এই মামলার শুনানি ও আদেশকে ঘিরে আইনজীবী মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।.

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর