সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 70
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুইচিং মং মারমা–এর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া কাগজ তৈরি করে পুকুরের মাটি কেটে বিক্রি করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের চৌপাকিয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মো. মামুন হোসেন। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান জানান, স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া যায়—চৌপাকিয়া এলাকায় রাতের অন্ধকারে একটি পুকুরে অবৈধভাবে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। আরও জানা যায়, এ কাজকে বৈধ দেখাতে সাবেক ইউএনও সুইচিং মং মারমা–এর নামে জাল স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া অনুমতিপত্র দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে রাতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একটি ট্রাকে মাটি ভর্তি করা হচ্ছে এবং পুকুরে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি তোলা চলছে।
তিনি বলেন, উপস্থিত হয়ে ভুয়া কাগজ যাচাই করে দেখা যায়—সেটি সম্পূর্ণ জাল। পুকুর খননে সরকারি আইন ও বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাই ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মো. মামুন হোসেনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মাটি ভর্তি ট্রাক জব্দ করা হয়। একই সময়ে খননযন্ত্রের ব্যাটারি খুলে নেওয়া হয়, যাতে পুনরায় অবৈধ খনন কাজ চালানো না যায়।
ইউএনও নুসরাত জাহান আরও বলেন, “পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তার ওপর সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণা করা গুরুতর অপরাধ। এসব কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, তাড়াশের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে পুকুর খনন, মাটি কাটা ও বিক্রির ঘটনা বেড়েছে। তাই এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও অবৈধ মাটি ব্যবসা, পরিবেশ ধ্বংস ও প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন ধরে চৌপাকিয়া এলাকায় রাতের বেলায় ট্রাক চলাচল বেড়ে গেছে। পুকুর খননের শব্দও শোনা যেত। কিন্তু অনেকে ভয় বা অসহায়ত্বের কারণে প্রশাসনকে জানাননি। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অভিযানের সময় প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযান শেষে জব্দ করা ট্রাক স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং মামলার নথি প্রস্তুত করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর