উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 156
রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে অবশেষে ৩২ ঘণ্টা টানা উদ্ধার তৎপরতার পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধার করার পর দ্রুত তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম।
গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। বাড়ির পাশে চলমান একটি গভীর নলকূপের কাজের গর্তে খেলার ছলে এগিয়ে যায় সাজিদ। অসাবধানতাবশত সে প্রায় ৪০ ফুট গভীর এ গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা নানা প্রচেষ্টা চালালেও শিশুটিকে উদ্ধার সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
শিশুর মতো একটি নরম দেহ ৪০ ফুট গভীরে আটকে থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল। ঘটনাস্থলে মুহূর্তেই মানুষের ভিড় জমে যায়, চারপাশে তৈরি হয় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পরিবেশ। শিশুটির কান্না বা কোনো শব্দ শোনা না গেলেও তাকে জীবিত পাওয়ার আশায় নিরন্তর চেষ্টা চালাতে থাকেন উদ্ধারকর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পাশেই আরেকটি খনন শুরু করেন যাতে শিশুটির কোনো ক্ষতি না হয়। মাটি ধসে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল চ্যালেঞ্জের, কারণ সামান্য ভুলেও গর্ত ভেঙে পড়তে পারত। তবু ৩২ ঘণ্টা অবিরাম পরিশ্রম শেষে উদ্ধারকর্মীরা শিশুটির কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তখন রাত প্রায় ৯টা। অচেতন অবস্থায় তাকে ওপরে তোলা হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন স্বস্তির আওয়াজে ফেটে পড়েন।
উদ্ধারকৃত শিশুটিকে দ্রুত তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের অভাব, ঠান্ডা ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হতে পারে। তবে তাকে বাঁচাতে সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গ্রামের মানুষের ভাষ্য—গভীর নলকূপের কাজের সময় যদি গর্তটি সঠিকভাবে ঘেরা থাকত, তাহলে এমন দুর্ঘটনা ঘটত না। অনেকেই কাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। শিশুটির বাবা-মা ও পরিবার শোকে বেহাল হলেও উদ্ধার হওয়ার পর তাদের মুখে কিছুটা স্বস্তির ছাপ দেখা যায়। ঘন্টায় ঘন্টায় তারা অপেক্ষা করেছেন তাদের সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম বলেন, “বাচ্চাটিকে বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। মাটি খনন করা ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও আল্লাহর রহমতে আমরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছি।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে চলমান নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। দীর্ঘ টানটান উত্তেজনার পর সাজিদকে জীবিত উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তির সুর বয়ে যায়।.
আকাশজমিন / আরআর