আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করলেও সীমান্তে সংঘাত থামেনি। শনিবার ভোরে নতুন করে গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, কম্বোডিয়ার সীমান্ত এলাকা থেকে সব সেনা প্রত্যাহার এবং স্থলমাইন অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, জনগণ ও ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত থাইল্যান্ড সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে।
বিবিসি জানাচ্ছে, সীমান্তের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের চেষ্টায় থাই সেনারা রাতভর গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। নতুন সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে এবং দুই দেশের সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৭ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপের পর তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন এবং গোলাগুলি বন্ধ হবে। তবে থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত এখনো পূরণ হয়নি।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার থাইল্যান্ড তাদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, থাই এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে একাধিক বোমা ফেলা হয়েছে। থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীও অভিযান চলমান থাকার কথা স্বীকার করেছে।
দুই দেশের বিরোধ প্রায় এক শতকের পুরোনো। ফরাসি উপনিবেশ আমলে সীমান্ত নির্ধারণের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে বিবাদ চলছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা গত ২৪ জুলাই তীব্র আকার নেয়, যখন কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের দিকে রকেট হামলা চালায়। এর জবাবে থাইল্যান্ড বিমান হামলা চালায়।
অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ “তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে” সম্মত হয়। তবে এরপরও উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করে আসছে। সীমান্তের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু মধ্যস্থতা নয়, বরং বাস্তবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মাইন অপসারণ ও মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা সংস্থার তদারকি প্রয়োজন, যাতে দুপক্ষই যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী কাজ করে।
সংঘাতের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বাণিজ্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উভয় দেশই সীমান্তের নিরাপত্তা ও মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নিলেও সামরিক দিক থেকে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
আকাশজমিন / আরআর