মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ লোকাল ট্রেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নেত্রকোনা জেলার সাধারণ যাত্রীরা। লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় জেলার পাঁচটি রেলস্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। যাতায়াত ব্যয়ের পাশাপাশি বেড়েছে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের খরচও। রেল কর্তৃপক্ষ ইঞ্জিন ও লোকবল সংকটকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও দীর্ঘদিনেও সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
কৃষিনির্ভর ও হাওরবেষ্টিত নেত্রকোনা জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা ছিল রেলপথ। মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ লোকাল ট্রেনটি প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীর যাতায়াত সহজ করত। তবে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ট্রেনটি বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে সড়কপথে যাতায়াত করছেন। এতে যেখানে লোকাল ট্রেনে ভাড়া ছিল মাত্র ৩০ টাকা, সেখানে এখন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। ভাঙাচোরা সড়ক ও অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয় যাত্রীরা জানান, সরকারের পতনের পর থেকে কেন এই স্টেশনগুলোতে লোকাল ট্রেন থামছে না, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি। আট মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো লোকাল ট্রেন মোহনগঞ্জসহ আশপাশের স্টেশনগুলোতে থামে না। ঢাকাগামী লোকাল ট্রেনও আর এই রেললাইন ব্যবহার করছে না। ফলে নিয়মিত যাতায়াত করা মানুষজন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বর্তমানে নেত্রকোনা জেলায় মোট ১৩টি রেলস্টেশন রয়েছে এবং চারটি উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রায় ২১২ কিলোমিটার রেললাইন বিস্তৃত। তবে লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় যাত্রী সংকট ও লোকবল না থাকার অজুহাতে জেলার পাঁচটি রেলস্টেশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্টেশননির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় দোকানপাটে ক্রেতা নেই, ব্যবসা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। ট্রেনে কম খরচে পণ্য পরিবহনের সুযোগ না থাকায় এখন তাদের সড়কপথে বেশি খরচে ফসল পাঠাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ময়মনসিংহে উৎপাদিত পণ্য অন্যান্য এলাকায় সময়মতো পরিবহন করা যাচ্ছে না। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে দিনে চারবার ট্রেন যাতায়াত করত। এখন ট্রেন না থাকায় বেচাকেনা প্রায় বন্ধ। সংসার চালানোই কষ্ট হয়ে গেছে।’
মোহনগঞ্জ লোকাল ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার। স্টেশন মাস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, ইঞ্জিন পেলেই লোকাল ট্রেন সার্ভিস চালু করা হবে।’
বর্তমানে ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রেললাইনে হাওর এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ও মহুয়া কমিউটার—এই তিনটি ট্রেন চলাচল করছে। এছাড়া ময়মনসিংহ-জারিয়া রুটে বলাকা কমিউটার ও একটি লোকাল ট্রেন চললেও ইঞ্জিন সংকট দেখিয়ে এই রুটেও জেলার একমাত্র জারিয়া লোকাল ট্রেন প্রায়ই বন্ধ রাখা হচ্ছে। দ্রুত লোকাল ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আকাশজমিন / আরআর