ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

আমতলী আদালতের প্রবেশ পথে ঝুঁকিপূর্ণ পরিত্যক্ত ভবন


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:০৩ পিএম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

অর্ধশত বছরের পুরনো দুইটি পরিত্যক্ত ভবনের কারণে আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রায় ২০ হাজার বিচারপ্রার্থী প্রাণহানির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ভবনের পাশে দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে আদালতে প্রবেশ করেন। স্থানীয়রা দ্রুত এসব ভবন অপসারণের দাবিতে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।

জানাগেছে, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃপক্ষ আমতলী উপজেলায় মেশিনারিজ যন্ত্রাংশ মজুদ রাখার জন্য দুটি দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণ করে। কিন্তু প্রায় ১৫ বছর আগে উপজেলা প্রশাসন ওই ভবন দুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং এই ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং ‘পরগাছা’ জন্ম দিয়ে ভুতুড়ে অবস্থায় পরিণত হয়েছে।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মূল প্রবেশদ্বার এই দুই ভবনের মধ্য দিয়ে। ফলে বিচারপ্রার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা একেবারেই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনগুলোর ইটপাথর ও ভীম খসে পড়ছে, যা যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

বিচারপ্রার্থী আব্দুল মাজেদ মাষ্টার বলেন, “এভাবে দু’টি পরিত্যক্ত ভবন দেখতে খুবই খারাপ লাগে। এতে আমাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। দ্রুত এগুলো অপসারণ করা উচিত।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো আদালতের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে এবং প্রবেশ পথে চলাচলকারীদের জন্যও বিপজ্জনক।” আদালতের পেশকার মোঃ আবুবকর জানান, “এই দুই ভবন ধসে গেলে বিশাল বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিচারপ্রার্থী ও আইজীবিদের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।”

আদালতের আইনজীবি অ্যাডভোকেট নুহু-উল আলম নবীন বলেন, “পরিত্যক্ত ভবনগুলোর কারণে আমাদের জীবনে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কখন কি ঘটনা ঘটবে কেউ জানে না।”

বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্নবার জানানো হয়েছে ভবন দুটির অবস্থা নিয়ে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”

বরগুনা জেলা বার সদস্য ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, “আমরা বহুবার উপজেলা প্রশাসনকে পরিত্যক্ত ভবন দুটি অপসারণের জন্য অনুরোধ করেছি। দ্রুত এ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।” আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মোঃ ইদ্রিস আলী বলেন, “আগে এই ভবন দুটি পরিত্যক্ত তালিকায় ছিল। এখন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবন দুটি অপসারণের উদ্যোগ নেব।”

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর