ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

শেখ হাসিনাকে কি ফেরত দেবে ভারত?


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:২৬ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না—এ বিষয়ে ভারত সরকার এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ইঙ্গিতের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহাম্মদ সেলিম বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করবেন নাকি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন—এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের হাতে। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে ভারত সরকার এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আগে বাংলাদেশ সংক্রান্ত নানা ইস্যুতে মোদি সরকার যেভাবে সরব ছিল, বর্তমানে সেই সরবতা কেন নেই?

সেলিমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা কিংবা রাজনৈতিক চাপের কারণেই ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছে না। তার মতে, বিষয়টি শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ভারত সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরাশক্তির ভূমিকা বিবেচনায় রেখেই দিল্লি এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নৈতিক অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকার দ্বিচারিতা করছে। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার অবস্থান ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে ভারতের স্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া উচিত।

মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ভারত সরকার যদি সত্যিই গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের পক্ষে থাকে, তাহলে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, নীরবতা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে এবং তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এই বক্তব্য ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং ভারত সরকারের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মহলে জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, মোহাম্মদ সেলিমের বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও বাংলাদেশের ত্রিমুখী সম্পর্কের জটিলতার মধ্যেই শেখ হাসিনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর