বগুড়া সংবাদদাতা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরা উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা কর্মসূচিতে যোগ দিতে বগুড়া থেকে অর্ধলক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক ঢাকায় যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকে রাজধানীর পথে রওনা হয়েছেন। কেউ যাচ্ছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে, আবার কেউ দলীয় ব্যবস্থাপনায় ভাড়া করা যানবাহনে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক বাস ও অন্যান্য যানবাহন ভাড়া করা হয়েছে। গত দুদিন ধরে এসব পরিবহনে নেতাকর্মীরা ঢাকায় যাচ্ছেন এবং বুধবার রাত পর্যন্ত এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে বগুড়া জেলা থেকে অর্ধলক্ষাধিক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাবর্তন দিবসকে সামনে রেখে বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, গাবতলী, ধুনট, শেরপুর, সারিয়াকান্দি ও শাজাহানপুরসহ জেলার ১২টি উপজেলা থেকে ঢাকাগামী বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দলীয় হিসাব অনুযায়ী, মোট ৫০০টি বাসের মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলা থেকেই যাবে ২৫০টি বাস। বাকি ১১টি উপজেলার প্রতিটি থেকে গড়ে ২০টি করে আরও ২৫০টি বাস ঢাকায় যাবে। এ ছাড়া অনেক নেতাকর্মী ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে ঢাকায় যাচ্ছেন।
শুধু সড়কপথ নয়, রেলপথেও নেতাকর্মীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টায় বগুড়া থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে করে নেতাকর্মীরা যাত্রা করছেন। এসব ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক ঢাকায় যাচ্ছেন।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন বলেন, জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার নেতৃত্বে অর্ধলক্ষাধিক নেতাকর্মী ঢাকায় যাচ্ছেন। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নেতাকর্মীদের যাতায়াত, থাকা ও খাবারের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন—এ কারণে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। সবাইকে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিএনপির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০টি বিশেষ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব ট্রেন ভাড়ার বিনিময়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত চলাচলকারী বিভিন্ন ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। বিশেষ ট্রেন পরিচালনার কারণে কিছু নিয়মিত ট্রেন এক দিনের জন্য বাতিল করা হয়েছে, যার জন্য সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার কথা জানানো হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে তারেক রহমানের ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর ৩০০ ফুট সড়কে বড় পরিসরে সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে তুলতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর