ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষণা করা রাষ্ট্রীয় শোকের মাঝে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম আজ ১ জানুয়ারি সারাদেশে শুরু হয়েছে। তবে শোকের কারণে বই উৎসব বাতিল করা হয় এবং কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বই গ্রহণ করেছে।
ঝালকাঠি জেলায় প্রাথমিক স্তরে প্রায় শতভাগ বই বিতরণ হলেও মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরে বড় সংখ্যক শিক্ষার্থী এখনও বইবঞ্চিত রয়েছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম–দশম শ্রেণি পর্যন্ত বই বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
ঝালকাঠি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট বইয়ের চাহিদা ১১ লাখ ১৯ হাজার ৮৮২ কপি হলেও এনসিটিবি থেকে মাত্র ৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪০ কপি পেয়েছে জেলা। বিতরণ হয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ১৯৫ কপি, ফলে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪২ কপি বইয়ের ঘাটতি রয়েছে।
প্রাথমিক স্তরে মোট চাহিদা ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার ৪০ কপি, যা প্রায় পুরোপুরি সরবরাহ ও বিতরণ করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে বইয়ের চাহিদা ছিল ৬ লাখ ২ হাজার ৫৪৫ কপি, সরবরাহ হয়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৮০০ কপি, বিতরণ হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৩০ কপি। এই স্তরে বই বিতরণ হার মাত্র ৪৮.৪৩ শতাংশ।
মাদরাসা (দাখিল) স্তরে বইয়ের চাহিদা ছিল ৩ লাখ ১৪ হাজার ৮০৫ কপি, সরবরাহ পেয়েছে মাত্র ৮৯ হাজার কপি এবং বিতরণ হয়েছে ৮৫ হাজার ৮৬৫ কপি, ফলে বইয়ের ঘাটতি ২ লাখ ২৫ হাজার ৮০৫ কপি।
কারিগরি শিক্ষায় সব থেকে সংকটপূর্ণ অবস্থা। এখানে বইয়ের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৪৯২ কপি, কিন্তু এখনও কোনো বই সরবরাহ বা বিতরণ হয়নি।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার তারুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে সব বই এসে পৌঁছেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে কোনো অনুষ্ঠান করা হয়নি, শিক্ষার্থীরা নীরবে বই গ্রহণ করেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবু সাইদ বলেন, “এনসিটিবি থেকে পর্যায়ক্রমে বই সরবরাহ করা হবে। বাকি বই দ্রুত পাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরবরাহ পেলেই দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পৌঁছে দেওয়া হবে।”
আকাশজমিন / আরআর