অবকাশকালীন ছুটি শেষে নতুন বছরের প্রথম কার্যদিবসে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে একযোগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধান বিচারপতির আদেশে গঠিত নতুন বেঞ্চগুলোর মাধ্যমে বিচারকাজে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে এই বেঞ্চ গঠনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, গঠিত ৬৬টি বেঞ্চের মধ্যে দ্বৈত বেঞ্চ ও একক বেঞ্চ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বেঞ্চে বিভিন্ন ধরনের রিট, আপিল, ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বেঞ্চগুলোর কার্যতালিকা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা সহজেই সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের তথ্য জানতে পারেন।
এদিকে অবকাশকালীন ছুটি শেষে রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। দিনের শুরুতেই সকাল সাড়ে ১০টায় আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাস কক্ষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে সংবর্ধনা দেবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে বরণ করে নিতে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আইন পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মদিবস। এ উপলক্ষে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নতুন বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা অনেক মামলার শুনানি দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে রিট ও জরুরি মামলার ক্ষেত্রে নতুন বেঞ্চগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, অবকাশকালীন ছুটির সময় সীমিত সংখ্যক বেঞ্চে জরুরি মামলা শুনানি হয়ে থাকে। ছুটি শেষে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন বছরের শুরুতে একসঙ্গে ৬৬টি বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্তকে আদালতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইন অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনতে বেঞ্চ গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেঞ্চ সংখ্যা বাড়লে মামলার চাপ তুলনামূলকভাবে কমে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পান। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর এই সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন বেঞ্চগুলোতে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আদালতের এজলাস, কর্মচারী ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে রোববার থেকে কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই বিচারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন বেঞ্চ গঠনের খবরে স্বস্তি দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক মামলা শুনানির অপেক্ষায় ছিল। নতুন বেঞ্চ গঠনের ফলে সেসব মামলার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন বছরের শুরুতে বিচারিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে আইনজীবীরাও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। নিয়মিত কোর্ট কার্যক্রমে অংশ নিতে তারা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
সব মিলিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের ৬৬টি বেঞ্চ গঠন এবং আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে নতুন বছরে বিচার বিভাগের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপে শুরু হতে যাচ্ছে। আইন অঙ্গনে এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর