অনলাইন রিপোর্টার
ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনের সীমানা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়ে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে ফরিদপুর-৪ আসনের ভৌগোলিক সীমানা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন কার্যত বাতিল হলো।
সোমবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করে ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগি ও হামিরদি ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনের নগকান্দা উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করেন। ওই রায়ে আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট আসনের সীমানা পরিবর্তনে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা অনুসরণ করা হয়নি।
হাইকোর্টে ওই দিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়, যা ভোটার প্রতিনিধিত্ব ও নির্বাচনের স্বচ্ছতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
এরও আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগি ও হামিরদি ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনের নগকান্দা উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একই সঙ্গে ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।
এই রুলের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় ফরিদপুর জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যেও সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, সীমানা পরিবর্তনের ফলে ভোটার বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং নির্বাচনী ভারসাম্য ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফরিদপুর-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান দুলালসহ মোট পাঁচজন এই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তটি আইনসঙ্গত নয় এবং এটি সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে।
আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় এখন ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনের সীমানা পূর্বের অবস্থায়ই বহাল থাকবে। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ওই আসনের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে আর কোনো আইনি জটিলতা থাকল না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনজীবীরা বলছেন, এই রায়ের মাধ্যমে সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে আরও সতর্ক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বার্তা দেওয়া হলো। একই সঙ্গে ভোটার প্রতিনিধিত্বের ন্যায্যতা ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর