পরিবার সঞ্চয়পত্র মূলত নারীদের জন্য বিশেষায়িত। এটি মধ্যবিত্ত নারীদের মধ্যে জনপ্রিয়। সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই সময়মতো নিয়মিত মাসিক মুনাফা তোলা যায়।
এ পর্যন্ত সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে হার ছিল ১১.৮০ শতাংশ। এই হারই এখন বহাল রয়েছে।
এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বর্তমান হারে প্রতি মাসে মুনাফা পাওয়া যাবে ৯৪৪ টাকা। তবে উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়। ৫ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে ৫ শতাংশ উৎসে কর কেটে গ্রাহক হাতে পাবেন প্রতি মাসে ৮৪৪ টাকা ৪৬ পয়সা। ৫ লাখ টাকার বেশি কিন্তু সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম হলে কর কেটে হাতে মুনাফা মিলবে ৮৯৪ টাকা ৭৫ পয়সা। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে কর কেটে হাতে পাবেন ৮৮৫ টাকা।
মাসিক মুনাফা নেওয়ার পর পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হলে মূল টাকা ফেরত পাওয়া যায়। মেয়াদ পূর্তির আগে নগদায়ন করলে বাকি অর্থ সরকার কর্তন করে ফেরত দেয়।
সর্বোচ্চ বিনিয়োগ: একজন ক্রেতা একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। যৌথ নামে কেনা যায় না।
যোগ্যতা: ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নারী এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। এছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী পুরুষ ও নারী, ৬৫ ও তদূর্ধ্ব বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি পুরুষ ও নারীও কিনতে পারবেন।
প্রাপ্তি: জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা ও ডাকঘর থেকে পরিবার সঞ্চয়পত্র কেনা ও ভাঙানো যায়।
মূল্যমান: ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, ১ লাখ, ২ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা।
অন্যান্য সুবিধা:
প্রতি মাসে মুনাফা উত্তোলন করা যায়।
নমিনি বা মনোনীত পরিবর্তন, বাতিল করা যায়।
ক্রেতার মৃত্যু হলে নমিনি সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারেন।
হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে বিকল্প (ডুপ্লিকেট) সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হয়।
পরিবার সঞ্চয়পত্র মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক বিনিয়োগ মাধ্যম। নিয়মিত মুনাফার সুবিধা এবং বিশেষ সুযোগ-সুবিধার কারণে এটি অনেকের পছন্দের সঞ্চয়পত্র।